মুসলিম উপজাতি কারা বাংলাদেশের ?

🕌 মুসলিম উপজাতি কারা বাংলাদেশের? — পরিচয়, অবস্থান ও নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতা

বাংলাদেশে “উপজাতি” বা “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” বলতে সাধারণত বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর বাইরে থাকা আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোকে বোঝায়। দেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বৌদ্ধ, হিন্দু বা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোন উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম পালন করে? এই প্রশ্নের উত্তর মূলত একটি সম্প্রদায়ের দিকে ইঙ্গিত করে, যারা “পাঙাল” বা “পাঙন” নামে পরিচিত। এছাড়া কিছু সংখ্যক মুসলিম “বেদে” (Bede) জনগোষ্ঠী এবং কিছু সংখ্যক মুসলিম চাকমা ও মারমার কথাও উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে নৃতাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিবিন্যাসে বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হলো পাঙাল (মুসলিম মণিপুরি)। এই লেখায় এই সম্প্রদায়ের পরিচয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি, জনসংখ্যা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে “মুসলিম উপজাতি” ধারণার বিভিন্ন মাত্রা বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।


📜 “উপজাতি” ও “মুসলিম উপজাতি”: ধারণার স্পষ্টীকরণ

বাংলাদেশে “উপজাতি” শব্দটি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেক গবেষক ও মানবাধিকার সংস্থা “উপজাতি”র বদলে “আদিবাসী” বা “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” শব্দ ব্যবহার করতে prefer করেন। সরকারি নথিতে সাধারণত “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” ব্যবহৃত হয়। এই নিবন্ধে মূলত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্য আলোচনা করা হয়েছে।

“মুসলিম উপজাতি” বলতে এমন কোনো জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে বোঝায় যারা বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর বাইরে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও ভাষিক পরিচয় ধারণ করে এবং একই সঙ্গে ইসলাম ধর্ম পালন করে। বাংলাদেশে এই সংজ্ঞার সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে মেলে পাঙাল (Pangal) সম্প্রদায়।


🏷️ পাঙাল (মুসলিম মণিপুরি): বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

🧬 পরিচয় ও নামকরণ

“পাঙাল” নামটি মূলত “পাঙন” বা “পাঙান” শব্দের বিকল্প রূপ। এরা নিজেদের “মুসলিম মণিপুরি” বা “মণিপুরি মুসলমান” নামেও পরিচয় দেয়। নৃতাত্ত্বিকভাবে এরা মণিপুরি জনগোষ্ঠীর একটি শাখা, যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। কথিত আছে, মণিপুরি মাতা ও মুসলিম পিতার সমন্বয়ে এই সম্প্রদায়ের সৃষ্টি। এরা ধর্মীয়ভাবে মুসলিম, কিন্তু ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এবং সামাজিক রীতিনীতিতে মূলধারার বাঙালি মুসলিমদের থেকে ভিন্ন; বরং এদের সংস্কৃতিতে মণিপুরি ঐতিহ্যের প্রভাব বেশি।

📍 অবস্থান ও জনসংখ্যা

পাঙালদের অধিকাংশের বসবাস সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলায়। এছাড়া সিলেটের কিছু অংশেও এদের দেখা মেলে। বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন কর্তৃক ২০১৯ সালের শুমারি অনুযায়ী, পাঙালদের জনসংখ্যা ১০,৯৪৭ জন (পুরুষ ৫,৬৩৮ ও নারী ৫,৩০৯)। তবে অন্য কিছু সূত্রে মৌলভীবাজার জেলায় প্রায় ৩০,০০০ মুসলিম মণিপুরি/পাঙনের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়, যা সম্ভবত বৃহত্তর জনসংখ্যার একটি আনুমানিক চিত্র।

🎭 সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা

পাঙালদের জীবনযাত্রা তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের প্রমাণ বহন করে। এদের ঘরবাড়ি, পোশাক-পরিচ্ছেদ, খাদ্যাভ্যাস ও সামাজিক অনুষ্ঠান বাঙালি মুসলিমদের থেকে ভিন্ন। নারীরা নিজস্ব তাঁতে কাপড় বুনে আয় করেন; অবিবাহিত মেয়েরা ‘ফানেক’ নামের বিশেষ পোশাক পরেন। এদের সমাজে ভিক্ষাবৃত্তি নেই; অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত। বিয়ে-শাদী সাধারণত নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যেই হয়, যাতে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অটুট থাকে। মসজিদে জুমার খুতবা বা ধর্মীয় আলোচনাও তারা পাঙাল ভাষায় করে থাকেন। এদের নিজস্ব পঞ্চায়েত ব্যবস্থা রয়েছে, যা সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি করে।

🕌 ধর্মীয় জীবন

পাঙালরা সুন্নি মুসলিম। তারা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ পালন করে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে। তবে তাদের ধর্মচর্চায় স্থানীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া রয়েছে। তারা নিজেদের ভাষায় ধর্মীয় আলোচনা করে, যা মূলধারার বাংলা ভাষার মুসলিমদের থেকে তাদের আলাদা করে। এই দ্বৈত পরিচয়—একদিকে মুসলিম, অন্যদিকে মণিপুরি সংস্কৃতির ধারক—их বাংলাদেশের নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের একটি অনন্য উদাহরণ করে তুলেছে。


👥 অন্যান্য মুসলিম-অধ্যুষিত জনগোষ্ঠী: পাঙাল ছাড়াও যাদের কথা জানা যায়

যদিও “পাঙাল” বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত, তবুও কিছু অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে মুসলিম উপস্থিতি রয়েছে বা ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।

🌊 বেদে (Bede): নদী-বিহারী মুসলিম জনগোষ্ঠী

বেদে বা বাইদ্যা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের একটি প্রান্তিক ও ভাসমান জনগোষ্ঠী, যারা নদী ও খালে নৌকায় জীবনযাপন করে। এদের প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলিম বলে উল্লেখ করা হয়। এরা মূলত আরাকান অঞ্চল থেকে আগত “মং-তং” জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে মনে করা হয়। তবে নৃতাত্ত্বিক শ্রেণিবিন্যাসে বেদেরা একটি “উপজাতি” হিসেবে স্বীকৃত কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; অনেক সময় তাদের “ভাসমান জনগোষ্ঠী” বা “প্রান্তিক সম্প্রদায়” হিসেবে অভিহিত করা হয়।

🏔️ চাকমা ও মারমা: সংখ্যালঘু মুসলিম উপস্থিতি

কিছু সূত্রে উল্লেখ আছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক মুসলিম রয়েছে। তবে এরা সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে বৌদ্ধ। চাকমারা মূলত বৌদ্ধধর্মাবলম্বী, এবং মারমারাও প্রায় সম্পূর্ণভাবে বৌদ্ধ। তাই এদের “মুসলিম উপজাতি” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় না।

🧑‍🌾 লাওরা (Lawra): আরেকটি মুসলিম জনগোষ্ঠী?

কিছু সূত্রে “পাঙন ও লাওরা”-কে বাংলাদেশের মুসলিম উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে “লাওরা” সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। সম্ভবত এটি পাঙাল/পাঙনের একটি উপশাখা বা সম্পর্কিত গোষ্ঠী হতে পারে।


⚖️ “উপজাতি” বনাম “জাতি” বনাম “পেশা”: বিভ্রান্তি এড়ানো

বাংলাদেশে “মুসলিম উপজাতি” খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় occupational caste (পেশাগত শ্রেণি) বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভ্রান্তি তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কাসাই (Qassab), বেস্যা (Besya), নামশূদ্র (Namassej) বা দুশাধ (Dusadh)—এই গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ধর্মাবলম্বী হলেও এরা নৃতাত্ত্বিক “উপজাতি” নয়; এরা মূলত বাংলাভাষী occupational বা বর্ণগত গোষ্ঠী। অন্যদিকে পাঙালরা ভাষা ও সংস্কৃতিতে স্বতন্ত্র, তাই তারা প্রকৃত অর্থে একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।


📊 জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বিস্তার: একটি সারসংক্ষেপ

জনগোষ্ঠী প্রধান অবস্থান ধর্ম আনুমানিক জনসংখ্যা
পাঙাল (মুসলিম মণিপুরি) মৌলভীবাজার (কমলগঞ্জ, কুলাউড়া), সিলেট ইসলাম প্রায় ১১,০০০–৩০,০০০
বেদে নদী-অববাহিকা (বাংলাদেশজুড়ে ভাসমান) ইসলাম (৯৯%) অজানা (কয়েক লক্ষ?)
চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম বৌদ্ধ (প্রধানত) প্রায় ২.৫ লক্ষ
মারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম বৌদ্ধ (প্রধানত) অজানা
সাঁওতাল উত্তরবঙ্গ (দিনাজপুর, রাজশাহী) সনাতন/খ্রিস্টান/ইসলাম (১%) লক্ষাধিক

সারণিটি শুধু ধারণা দেওয়ার জন্য; নির্ভরযোগ্য সর্বশেষ আদমশুমারি তথ্য সীমিত।


❓ সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১. ❓ বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম উপজাতি কোনটি?

উত্তর: বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হলো পাঙাল (যা পাঙন বা মুসলিম মণিপুরি নামেও পরিচিত)। এদের মূল বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলায়।

২. ❓ পাঙালরা কি মুসলিম না হিন্দু?

উত্তর: পাঙালরা মুসলিম। তারা সুন্নি ইসলাম অনুসরণ করে এবং ইসলামের মৌলিক বিধান পালন করে। তবে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে মণিপুরি ঐতিহ্যের প্রভাব রয়েছে।

৩. ❓ পাঙালদের জনসংখ্যা কত?

উত্তর: ২০১৯ সালের একটি শুমারি অনুযায়ী পাঙালদের জনসংখ্যা ১০,৯৪৭। তবে মৌলভীবাজার জেলায় প্রায় ৩০,০০০ মুসলিম মণিপুরি/পাঙন থাকার কথাও কিছু সূত্রে উল্লেখ আছে।

৪. ❓ পাঙাল ভাষা কী?

উত্তর: পাঙালদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, যা পাঙাল ভাষা নামে পরিচিত। তারা মসজিদে খুতবাও এই ভাষায় দিয়ে থাকে। ভাষাটি মণিপুরি ভাষা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়。

৫. ❓ পাঙালরা কি বাঙালি মুসলিমদের মতো জীবনযাপন করে?

উত্তর: না। পাঙালদের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, ঘরবাড়ি ও সামাজিক রীতিনীতি বাঙালি মুসলিমদের থেকে ভিন্ন। তারা নিজেদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে বিয়েও নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যেই করে।

৬. ❓ বেদে জনগোষ্ঠী কি একটি মুসলিম উপজাতি?

উত্তর: বেদেরা একটি প্রান্তিক ও ভাসমান জনগোষ্ঠী, যাদের প্রায় ৯৯% মুসলিম। তবে নৃতাত্ত্বিক শ্রেণিবিন্যাসে তাদের “উপজাতি” হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে; অনেক সময় তাদের “ভাসমান জনগোষ্ঠী” হিসেবে অভিহিত করা হয়।

৭. ❓ চাকমা বা মারমারা কি মুসলিম?

উত্তর: না, চাকমা ও মারমারা প্রধানত বৌদ্ধ। যদিও অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক মুসলিম তাদের মধ্যে থাকতে পারে,但他们কে “মুসলিম উপজাতি” বলা যায় না।

৮. ❓ পাঙালদের প্রধান উৎসব কী?

উত্তর: পাঙালরা মুসলিম হওয়ায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এছাড়া তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উদযাপন করে।

৯. ❓ পাঙালরা কি সরকারি সুবিধা পায়?

উত্তর: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে পাঙালরা সরকারি কোটা ও সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারে, তবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও তথ্যভিত্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় সুবিধা পেতে সমস্যা হয়।

১০. ❓ “মুসলিম উপজাতি” বলতে কি শুধু পাঙালদের বোঝায়?

উত্তর: প্রাতিষ্ঠানিক ও নৃতাত্ত্বিক অর্থে হ্যাঁ, মূলত পাঙাল। তবে বিস্তৃত অর্থে বেদে এবং কিছু সংখ্যক মুসলিম চাকমা/মারমাকেও এর মধ্যে ধরা হতে পারে, যদিও তারা স্বীকৃত “উপজাতি” হিসেবে পাঙালের মতো সুস্পষ্ট নয়।


📌 মূল টেকঅওয়ে (Key Takeaways)

  • বাংলাদেশে একমাত্র স্বীকৃত মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হলো পাঙাল (পাঙন/মুসলিম মণিপুরি), যারা মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলে বাস করে。

  • পাঙালরা ধর্মে মুসলিম, কিন্তু ভাষা, পোশাক ও সংস্কৃতিতে মণিপুরি ঐতিহ্যের ধারক; এই দ্বৈত পরিচয় তাদের অনন্য করে তুলেছে。

  • পাঙালদের জনসংখ্যা আনুমানিক ১১ হাজার থেকে ৩০ হাজার; তারা নিজেদের ভাষায় ধর্মীয় আলোচনা করে এবং নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ে করে।

  • বেদে জনগোষ্ঠী প্রায় সম্পূর্ণ মুসলিম হলেও তাদের “উপজাতি” হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস বিতর্কিত; তারা মূলত একটি ভাসমান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী。

  • চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল—এই বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো মূলত বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা সনাতন ধর্মাবলম্বী; তাদের “মুসলিম উপজাতি” বলা যায় না।

  • বাংলাদেশে “উপজাতি” ও “পেশাগত শ্রেণি” (যেমন কাসাই, বেস্যা)র মধ্যে বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি; সব মুসলিম গোষ্ঠীই নৃতাত্ত্বিক “উপজাতি” নয়。


✅ উপসংহার

“মুসলিম উপজাতি কারা বাংলাদেশের?”—এই প্রশ্নের উত্তর মূলত পাঙাল সম্প্রদায়ের দিকে নিয়ে যায়। পাঙালরা বাংলাদেশের নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের একটি অনন্য উদাহরণ: তারা ধর্মে মুসলিম, কিন্তু ভাষা ও সংস্কৃতিতে মণিপুরি। তাদের স্বতন্ত্র জীবনযাত্রা, নিজস্ব ভাষায় ধর্মচর্চা এবং গোষ্ঠীগত বিয়ের প্রথা তাদের আলাদা পরিচয়কে টিকিয়ে রেখেছে। তবে বাংলাদেশে “উপজাতি” ধারণাটি জটিল; বেদেのような মুসলিম-অধ্যুষিত জনগোষ্ঠী এবং চাকমা-মারমার মতো বৃহৎ গোষ্ঠীর সীমিত মুসলিম উপস্থিতি এই চিত্রকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্মীয় বৈচিত্র্য বোঝা জরুরি—কারণ এটি দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ও সহনশীলতারই পরিচায়ক。


📚 তথ্যসূত্র (References)

  1. BBC News বাংলা — “বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ‘পাঙাল'” (২৭ আগস্ট ২০২৩)। https://www.bbc.com/bengali/news-66632316.lite

  2. ইত্তেফাক — “ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখছে বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাঙাল” (২ সেপ্টেম্বর ২০২৩)। https://www.ittefaq.com.bd/657919/

  3. যায়যায়দিন — “ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সঠিক পরিচিতি” (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)। https://www.jaijaidinbd.com/todays-paper/editorial/281753

  4. Daily Inqilab — “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ইসলাম প্রচার প্রসঙ্গে” (৬ অক্টোবর ২০২৩)। https://dailyinqilab.com

  5. Teachers.gov.bd — “বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মুসলিম মণিপুরি বা পাঙাল”। https://www.teachers.gov.bd

  6. Sattacademy — “বাংলাদেশের কোন উপজাতি ইসলাম ধর্মের অনুসারী?” (২০১৮)। https://sattacademy.com

  7. ReadingRoomBD — “বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র মুসলিম উপজাতি কোনটি?”। https://readingroombd.com

  8. MyExaminer — “বাংলাদেশের কোন উপজাতি মুসলমান” (সমাধান)। https://myexaminer.net

  9. Bissoy — “বাংলাদেশের কোন উপজাতি ইসলাম ধর্মের অনুসারী?” (২৭ মে ২০২৩)। https://www.bissoy.com

  10. 10minuteExam — “বাংলাদেশের কোন উপজাতি ইসলাম ধর্মের অনুসারী?” (১১ জুলাই ২০২৪)। https://10minuteexam.com

  11. Joshua Project — “Qassab in Bangladesh” (পেশাগত মুসলিম গোষ্ঠী)। https://joshuaproject.net

  12. Joshua Project — “Bedia (Muslim traditions) in Bangladesh”। https://joshuaproject.net

  13. Teachers.gov.bd — “Bede, The River Gypsy of Bangladesh”। https://teachers.gov.bd

  14. Wikipedia — “Bede people” (ভাসমান মুসলিম জনগোষ্ঠী)। https://en.wikipedia.org/wiki/Bede_people

  15. ECOI.net — “Bangladesh: Ethnic minority communities, mostly tribal peoples” (USCIRF Report 2010)। https://www.ecoi.net

  16. Banglapedia — “পাংখোয়া” (পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি জনগোষ্ঠীর একটি)। https://bn.banglapedia.org

  17. PeopleGroups.org — “Pangkhu of Bangladesh” (ধর্ম: প্রোটেস্ট্যান্টিজম)। https://peoplegroups.org

  18. Wikipedia — “পাংখো” (বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী)। https://bn.wikipedia.org/wiki/পাংখো

  19. Kaler Kantho — “বাংলাদেশের আদিবাসী পাঙাল মুসলমান” (২৩ ডিসেম্বর ২০২৩)। https://www.kalerkantho.com

  20. Kaler Kantho — “পাংখোয়া” (২৫ জানুয়ারি ২০২১)। https://www.kalerkantho.com

  21. Wikipedia — “সাঁওতাল” (ধর্ম: সরনা, খ্রিস্টান, ইসলাম ১%)। https://bn.wikipedia.org/wiki/সাঁওতাল

  22. Archive.org — “Area Handbook for Bangladesh” (Chakmas: only tribe with Muslim members, nearly all Buddhists)। https://archive.org

  23. State.gov — “Background Notes: Bangladesh” (Ethnic groups: Bengali 98%, tribal groups)। https://2001-2009.state.gov

  24. Sattacademy — “বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মুসলমান?” (২০২৬)। https://sattacademy.com

  25. ReadingRoomBD — “বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মুসলমান?”। https://readingroombd.com

Was it helpfull? Rate this article:
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 5.00 out of 5)

Loading...

Scroll to Top