
🕊️ ননীবালা দেবী: বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ও বিস্মৃত বিপ্লবী
🧭 ভূমিকা
ননীবালা দেবী (১৮৮৮–১৯৬৭) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের একজন বিপ্লবী, যিনি যুগান্তর দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। একটি রক্ষণশীল সমাজে বাল্যবিধবা হিসেবে তিনি যে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন, তা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অনন্য। অথচ স্বাধীনতার পর তিনি প্রায় বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যান এবং দারিদ্র্যের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। এই নিবন্ধটি তার জীবন, বিপ্লবী কার্যকলাপ, ব্রিটিশ নির্যাতনের শিকার হওয়ার কাহিনি, এবং কেন তিনি স্মরণীয়—তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে।
👶 জন্ম, পারিবারিক পটভূমি ও বাল্যবিধবা জীবন
🏠 জন্ম ও পরিবার
ননীবালা দেবী ১৮৮৮ সালে হাওড়া জেলার বালিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতার নাম গিরিবালা দেবী। তিনি একটি মধ্যবিত্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান ছিলেন।
💔 বিবাহ ও বিধবা জীবন
তৎকালীন সমাজের প্রথা অনুযায়ী মাত্র এগারো বছর বয়সে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। পাঁচ বছর পর, অর্থাৎ ষোলো বছর বয়সে তিনি বিধবা হন এবং পিতৃগৃহে ফিরে আসেন। বিধবা হিসেবে তিনি আরও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সমাজের নানা বাধার মুখে পড়েন এবং বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন।
📖 শিক্ষা ও আশ্রয়
নিজের চেষ্টায় লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি প্রথমে আড়িয়াদহ মিশনে আশ্রয় নেন। এই সময়েই তিনি তার ভাইপো বিপ্লবী অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সংস্পর্শে আসেন।

🔥 বিপ্লবী জীবনে প্রবেশ ও যুগান্তর দল
🧑🤝🧑 ভাইপোর কাছে দীক্ষা
ননীবালা দেবী তার ভাইপো অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বিপ্লবী আদর্শ ও যুগান্তর দলের কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রথম অবহিত হন। অমরেন্দ্রনাথ ছিলেন যুগান্তর দলের একজন শীর্ষ নেতা। তার প্রভাবে ননীবালা দেবী বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
🏠 পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয়দান
ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ননীবালা দেবী রিষড়া ও চন্দননগরে গৃহকর্ত্রীর ছদ্মবেশে বাড়ি ভাড়া নিয়ে পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয় দেন। তিনি যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চট্টোপাধ্যায়, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চট্টোপাধ্যায়, নলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী-সহ বহু বিপ্লবীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, যাদের প্রত্যেকের মাথায় হাজার হাজার টাকার হুলিয়া ছিল। তিনি অস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন এবং এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে বার্তা পৌঁছে দিতেন।
🚔 প্রেসিডেন্সি জেলে অনুপ্রবেশ
১৯১৫ সালে যুগান্তর দলের নেতা রামচন্দ্র মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হলে তার কাছ থেকে জরুরি গোপন তথ্য আনতে হবে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রীর ছদ্মবেশে প্রেসিডেন্সি জেলে প্রবেশ করেন। একজন বিধবা হিন্দু নারীর জন্য সিঁদুর পরা ও সাজসজ্জা করা তখন প্রায় অকল্পনীয় ছিল, তবুও তিনি এই দুঃসাহসিক কাজটি সম্পন্ন করেন এবং মাউজার পিস্তলের সন্ধান সংগ্রহ করে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন。
⛓️ গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও কারাবন্দী জীবন
🏃 পলায়ন ও গ্রেপ্তার
পুলিশ যখন জানতে পারে যে রামচন্দ্র মজুমদারের কোনো স্ত্রী নেই, তখন ননীবালার নাম প্রকাশিত হয়ে যায়। তিনি বাংলা ছেড়ে পেশোয়ারে পালিয়ে যান, কিন্তু সেখানেও পুলিশ তাকে খুঁজে পায়। কলেরায় আক্রান্ত অবস্থাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বেনারস (কাশী) জেলে পাঠানো হয়।
😢 অমানবিক নির্যাতন
কাশী জেলে তার ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। তাকে জেরা করার জন্য শরীরের গোপন অঙ্গে লঙ্কার গুঁড়ো (লঙ্কাবাটা) ঢেলে দেওয়া হয়, যা ছিল এক ভয়াবহ ও অপমানজনক নির্যাতন। এছাড়াও তাকে আলো-বাতাসহীন একটি ছোট শাস্তি কুঠুরিতে (পানিশমেন্ট সেল) ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দি রাখা হয়, যার ফলে তিনি প্রায়শই জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন। তবুও তিনি কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি এবং কোনো সহযোদ্ধীর নাম উচ্চারণ করেননি।
🚩 প্রেসিডেন্সি জেলে রাজবন্দী
অবশেষে তাকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানো হয় এবং ১৮১৮ সালের ৩ নং রেগুলেশনের অধীনে স্টেট প্রিজনার (রাজবন্দী) হিসেবে আটক রাখা হয়। তিনিই ছিলেন বাংলার একমাত্র মহিলা স্টেট প্রিজনার।
🍽️ অনশন ও চড় মারার ঘটনা
প্রেসিডেন্সি জেলে ননীবালা দেবী একুশ দিনের অনশন শুরু করেন। জেল কর্তৃপক্ষ তাকে অনশন ভাঙাতে বললে তিনি শর্ত দেন যে তাকে বাগবাজারে শ্রীরামকৃষ্ণের পত্নী সারদা মায়ের কাছে রাখা হলে তিনি খাবেন। আই.বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি সেই দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেললে, ননীবালা দেবী ক্ষিপ্ত হয়ে গোল্ডির মুখে জোরে এক চড় বসিয়ে দেন। এই ঘটনা তার অদম্য আত্মসম্মান ও প্রতিবাদী চেতনার সাক্ষ্য বহন করে।
প্রশ্ন: ননীবালা দেবী কাকে চড় মেরেছিলেন?
উত্তর: পুলিশ সুপার গোল্ডিকে।
🕯️ মুক্তি, পরবর্তী জীবন ও মৃত্যু
🔓 মুক্তি ও সমাজের প্রত্যাখ্যান
১৯১৯ সালে তিনি মুক্তি পান। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করার পরেও সমাজ তাকে গ্রহণ করেনি। বালির বাড়িতে ফিরেও তিনি ঠাঁই পাননি এবং উত্তর কলকাতার একটি বস্তিতে দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটাতে বাধ্য হন।
💔 শেষ জীবন ও মৃত্যু
শেষ জীবনে তিনি টিবি (যক্ষ্মা) রোগে আক্রান্ত হন। স্বাধীনতার পরেও তিনি প্রায় বিস্মৃতই থেকে যান। ১৯৬৭ সালের মে মাসে তিনি শেষবারের মতো ৫০ টাকা পেনশন পান। ১৯৬৭ সালেই তিনি নীরবে মৃত্যুবরণ করেন।

🏅 কেন ননীবালা দেবী স্মরণীয়?
ননীবালা দেবী একাধিক কারণে ইতিহাসে স্মরণীয়:
-
বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী: তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা যাকে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে কারাগারে রাখা হয়।
-
অসাধারণ সাহসিকতা: বাল্যবিধবা হয়েও তিনি সমাজের সব রক্ষণশীলতা ভেঙে বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন এবং পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয় দেন।
-
প্রেসিডেন্সি জেলে অনুপ্রবেশ: স্ত্রীর ছদ্মবেশে জেলে ঢুকে গোপন তথ্য সংগ্রহ করা ছিল অবিশ্বাস্য সাহসের কাজ।
-
নির্যাতন সহ্য করে তথ্য না দেওয়া: অমানবিক শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও তিনি সহযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ করেননি।
-
আত্মসম্মানের প্রতীক: পুলিশ সুপার গোল্ডিকে চড় মেরে তিনি ব্রিটিশ শাসনের প্রতি তার ঘৃণা ও আত্মসম্মান প্রকাশ করেন。
-
স্বাধীনতার পর অবহেলা: যে নারী দেশের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন, স্বাধীনতার পর তাকে দারিদ্র্যে দিন কাটাতে হয়—এই বৈপরীত্যই তাকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
❓ সম্পর্কিত নয় এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর
ব্যবহারকারীর তালিকায় কিছু প্রশ্ন রয়েছে যেগুলো ননীবালা দেবীর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। সেগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
-
নবনীতা দাসের সিরিয়াল — এটি একটি বাংলা টেলিভিশন সিরিয়ালের নাম, ননীবালা দেবীর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
-
রাধারানী অভিষেক / রাধা অষ্টকম / শ্রী রাধাষ্টকম / রাধা চল্লিশা — এগুলো হিন্দু ধর্মের রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক আধ্যাত্মিক পাঠ ও গান, ননীবালা দেবীর জীবনীর অংশ নয়।

🔟 সর্বাধিক অনুসন্ধানকৃত ৫০টি প্রশ্ন ও উত্তর
| # | প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|---|
| ১ | ননীবালা দেবী কে ছিলেন? | বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ও যুগান্তর দলের বিপ্লবী। |
| ২ | তিনি কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? | ১৮৮৮ সালে। |
| ৩ | তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? | হাওড়া জেলার বালিতে। |
| ৪ | তার বাবার নাম কি? | সূর্যকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। |
| ৫ | তার মায়ের নাম কি? | গিরিবালা দেবী। |
| ৬ | তিনি কত বছর বয়সে বিধবা হন? | ষোলো বছর বয়সে। |
| ৭ | তিনি কার কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পান? | ভাইপো অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। |
| ৮ | তিনি কোন দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? | যুগান্তর দল। |
| ৯ | তিনি কাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন? | অমর চ্যাটার্জী ও তাঁর সহকর্মীদের। |
| ১০ | তিনি কোথায় আশ্রয় দিয়েছিলেন? | রিষড়া ও চন্দননগরে। |
| ১১ | তিনি কত সালে মারা যান? | ১৯৬৭ সালে। |
| ১২ | তিনি কীভাবে মারা যান? | টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে দারিদ্র্যের মধ্যে। |
| ১৩ | তাকে কোন জেলে নির্যাতন করা হয়? | কাশী (বেনারস) জেলে। |
| ১৪ | তাকে কীভাবে নির্যাতন করা হয়? | শরীরের গোপন অঙ্গে লঙ্কাবাটা ঢেলে। |
| ১৫ | তিনি কত দিন অনশন করেন? | একুশ দিন। |
| ১৬ | তিনি কাকে চড় মেরেছিলেন? | পুলিশ সুপার গোল্ডিকে। |
| ১৭ | তিনি কাকে দরখাস্ত লিখে দিয়েছিলেন? | পুলিশ সুপার গোল্ডিকে (সারদা মায়ের কাছে রাখার আবেদন)। |
| ১৮ | তিনি কেন পলাতক হন? | পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে। |
| ১৯ | তিনি কোথায় পলাতক অবস্থায় যান? | পেশোয়ারে। |
| ২০ | তাকে কোন ধারায় রাজবন্দী করা হয়? | ১৮১৮ সালের ৩ নং রেগুলেশনে। |
| ২১ | তিনি কোন জেলে রাজবন্দী ছিলেন? | প্রেসিডেন্সি জেলে। |
| ২২ | তিনি কি বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী? | হ্যাঁ। |
| ২৩ | তিনি কত সালে মুক্তি পান? | ১৯১৯ সালে। |
| ২৪ | মুক্তির পর তিনি কোথায় থাকতেন? | উত্তর কলকাতার বস্তিতে। |
| ২৫ | তিনি কি স্বাধীনতার পর সম্মান পান? | না, তিনি প্রায় বিস্মৃতই থেকে যান। |
| ২৬ | তার শেষ পেনশন কত ছিল? | ৫০ টাকা (১৯৬৭ সালের মে মাসে)। |
| ২৭ | তিনি কি প্রেসিডেন্সি জেলে অনুপ্রবেশ করেন? | হ্যাঁ, রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রীর ছদ্মবেশে। |
| ২৮ | তিনি জেলে কী সংগ্রহ করেন? | মাউজার পিস্তলের সন্ধান। |
| ২৯ | তিনি কত সালে যুগান্তর দলে যোগ দেন? | ১৯১০-এর দশকে। |
| ৩০ | তার ভাইপোর নাম কি? | অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। |
| ৩১ | তিনি কি পুনরায় বিবাহ করেন? | না, তিনি আমৃত্যু বিধবা ছিলেন। |
| ৩২ | তিনি কি লেখাপড়া শিখেছিলেন? | হ্যাঁ, কিছুটা শিক্ষা পেয়েছিলেন। |
| ৩৩ | তিনি কোথায় শিক্ষা গ্রহণ করেন? | আড়িয়াদহ মিশনে। |
| ৩৪ | তিনি কি স্বাধীনতা সংগ্রামী? | হ্যাঁ, তিনি একজন বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী। |
| ৩৫ | তাকে কি নির্যাতন করে ভাঙা সম্ভব হয়েছিল? | না, তিনি কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। |
| ৩৬ | তিনি কত সালে বিধবা হন? | ষোলো বছর বয়সে (প্রায় ১৯০৪ সালে)। |
| ৩৭ | তার বিবাহ কত বছর বয়সে হয়? | এগারো বছর বয়সে। |
| ৩৮ | তিনি কি চন্দননগরে বাড়ি ভাড়া নেন? | হ্যাঁ, পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতে। |
| ৩৯ | তিনি কি গৃহকর্ত্রীর ছদ্মবেশ নেন? | হ্যাঁ। |
| ৪০ | তাকে কোন রোগে আক্রান্ত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়? | কলেরা রোগে। |
| ৪১ | তাকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়? | পেশোয়ার থেকে। |
| ৪২ | তাকে কোন জেলে পাঠানো হয়? | কাশী জেলে, পরে প্রেসিডেন্সি জেলে। |
| ৪৩ | তিনি কি অনশন ভাঙতে রাজি হয়েছিলেন? | শুধুমাত্র সারদা মায়ের কাছে রাখার শর্তে। |
| ৪৪ | গোল্ডি তার দরখাস্তের কী করেছিল? | ছিঁড়ে ফেলেছিল। |
| ৪৫ | তিনি কি চড় মেরে প্রতিশোধ নেন? | হ্যাঁ, গোল্ডিকে চড় মেরেছিলেন। |
| ৪৬ | তাকে কি ১৯১৮ সালে রাজবন্দী করা হয়? | হ্যাঁ। |
| ৪৭ | তিনি কি ১৯১৯ সালে মুক্তি পান? | হ্যাঁ। |
| ৪৮ | তার জীবনী নিয়ে বই আছে কি? | হ্যাঁ, “The Lioness They Widowed” নামে একটি ইংরেজি বই রয়েছে। |
| ৪৯ | তিনি কি স্মরণীয়? | হ্যাঁ, বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী হিসেবে। |
| ৫০ | তাকে কি স্বাধীনতার পর স্বীকৃতি দেওয়া হয়? | না, তাকে প্রায় বিস্মৃতই করা হয়। |
💎 মূল বিষয়সমূহ (Key Takeaways)
-
প্রথম মহিলা রাজবন্দী: ননীবালা দেবী বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন。
-
বাল্যবিধবার সাহস: ষোলো বছর বয়সে বিধবা হয়েও তিনি সমাজের সব বাধা ভেঙে বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন。
-
যুগান্তর দলের অবদান: তিনি পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয়, অস্ত্র সংরক্ষণ এবং গোপন তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন。
-
অমানবিক নির্যাতন: কাশী জেলে তার ওপর লঙ্কাবাটা ঢেলে নির্যাতন চালানো হয়, তবুও তিনি ভাঙেননি。
-
আত্মসম্মানের প্রতীক: পুলিশ সুপার গোল্ডিকে চড় মেরে তিনি ব্রিটিশ শাসনের প্রতি প্রতিবাদ জানান。
-
বিস্মৃতির বেদনা: স্বাধীনতার পর তাকে সম্মান না দিয়ে দারিদ্র্যে ঠেলে দেওয়া হয়—এটি ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়。
📝 উপসংহার
ননীবালা দেবী ছিলেন এমন একজন নারী, যিনি তার সময়ের সমাজ ও শাসকশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যে সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন, তা আজও আমাদের হৃদয়ে নাড়া দেয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে দেশপ্রেম ও আত্মসম্মানের কোনো লিঙ্গ নেই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, স্বাধীনতার পর যে জাতি তার কাছে এত ঋণী, সেই জাতিই তাকে ভুলে গেছে। তার জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য বুঝতে হলে সেই সব নীরব বীরদের কথা জানতে হবে, যারা ইতিহাসের আড়ালে থেকে গেছেন। ননীবালা দেবী শুধু বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী নন—তিনি প্রতিটি সেই নারীর প্রতিনিধি, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছেন。
📚 তথ্যসূত্র (References)
-
বাংলা উইকিপিডিয়া — ননীবালা দেবী: https://bn.wikipedia.org/wiki/ননীবালা_দেবী
-
Teachers.gov.bd — বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1381437
-
Calcutta Television Network — শরীরে লঙ্কাবাটা ঢেলে করা হত নির্যাতন! বিস্মৃত এক নারী বিপ্লবীর কাহিনি: https://calcuttatelevisionnetwork.in
-
Jagran — …जब बंगाल की पहली महिला वीरांगना राजनीतिक बंदी ननीबाला देवी ने जेलर पर जड़ा था थप्पड़: https://www.jagran.com
-
Geraldine Forbes, The New Cambridge History of India: Women in Modern India — Archive.org: http://archive.org
-
Asianet News Bangla — ননীবালা দেবী: ভুলে যাওয়া স্বাধীনতা সংগ্রামীর কথা: https://bangla.asianetnews.com
-
News18 Bangla — Independence Day: বাংলার প্রথম রাজবন্দী, ননীবালা দেবীর মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীকে পিটিয়ে মারতে চেয়েছিল ইংরেজ: https://bengali.news18.com
-
Weekly Ekota — ননীবালাদেবী: https://weeklyekota.net
-
Bangla Jago TV — বঙ্গবালা স্বাধীনতা সংগ্রামী ননীবালা: https://banglajagotv.com
-
Sangbad Pratidin — বিস্মৃত বীরাঙ্গনারা, নারী দিবসে ফিরে দেখা সেই সাহসিনীদের: https://www.sangbadpratidin.in
-
WBShiksha — স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী Class 7 প্রশ্ন উত্তর: https://wbshiksha.com
-
Might Learn — WBBSE Class 7 Sahityamela Chapter 27 Solution: https://mightlearn.com
-
Daily Assam — West Bengal Class 7 Bangla Chapter 27 Solution: https://www.dailyassam.com
-
Shodhganga — Research on Nanibala Devi: https://shodhganga.inflibnet.ac.in
-
eBangla Library — ননীবালা দেবী: https://www.ebanglalibrary.com
-
Bengalism — মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী Archives: https://bengalism.com
-
Gandhi Museum — ননীবালা দেবী: https://gandhimuseum.in
-
Collective Biographies of Women — Nanibala Devi: https://cbw.iath.virginia.edu
-
Devashrit Panda, The Lioness They Widowed (Book): https://www.booktopia.com.au
-
Archive.org — Nanibala Devi (1888–1967) Document: https://dn760001.eu.archive.org
Was it helpfull? Rate this article:

(12 votes, average: 4.75 out of 5)
