কারা বাংলাদেশে প্রধানত ইসলাম প্রচার করে ?

🕌 বাংলাদেশে ইসলাম প্রধানত কারা প্রচার করে? — প্রতিষ্ঠান, ধারা ও সমকালীন চিত্র

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম। কিন্তু এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার কাজটি কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর হাতে নেই। ঐতিহাসিকভাবে সুফি দরবেশ ও পিরদের মাধ্যমে ইসলামের প্রসার ঘটলেও, সমকালীন বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার বা দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনা করে মূলত কয়েকটি বড় ধারার প্রতিষ্ঠান—কওমি মাদ্রাসা নেটওয়ার্ক, তাবলিগ জামাত, রাজনৈতিক ইসলামি দল ও আন্দোলন, সুফি-কেন্দ্রিক সংগঠন, আহলে হাদিস আন্দোলন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এই লেখায় প্রতিটি ধারার ভূমিকা, কার্যক্রমের ধরন এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।https://independent-bangladesh.com/top/কারা-বাংলাদেশে-প…ইসলাম-প্রচার-করে/


📜 ঐতিহাসিক পটভূমি: সুফি দরবেশ ও পিরদের উত্তরাধিকার

বাংলায় ইসলামের প্রসারের ইতিহাস শুরু হয় মূলত সুফি, দরবেশ, পির ও ফকিরদের আগমন দিয়ে। দ্বাদশ শতকে বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর তুরস্ক, মধ্য এশিয়া, আফগানিস্তান, আরব ও ভারত থেকে বিপুল সংখ্যক সুফি সাধক বাংলায় আসেন। এঁদের মধ্যে শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার, শাহ জালাল, শাহ পরাণ, বদরুদ্দীন, শেখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। এঁরা কেবল ধর্মোপদেশ দেননি; খানকাহ, দরগাহ ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে সমাজসেবার মাধ্যমে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করেন। গবেষণায় দেখা যায়, সুফি সাধকদের নৈতিক চরিত্র, উদারতা ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সহাবস্থান বাংলায় ইসলামের স্বাভাবিক প্রসারে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আজও বিভিন্ন সুফি তরিকা (কাদেরিয়া, নকশবন্দিয়া, চিশতিয়া, মুজাদ্দেদিয়া ইত্যাদি) এবং পির-মুরিদি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দীক্ষা চলমান আছে। চট্টগ্রামভিত্তিক আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ৬৪টি আলিয়া মাদ্রাসা ও ২৮টি খানকা শরিফ পরিচালনা করে, যেখানে ওয়াজ মাহফিল ও দাওয়াহ কার্যক্রম হয়। ঢাকাভিত্তিক ঢাকা আহসানিয়া মিশন সুফি অনুপ্রাণিত বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর একটি, যা শিক্ষা ও মানবসেবার মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়।


🏫 কওমি মাদ্রাসা নেটওয়ার্ক: দাওয়াহর মূল উৎস

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের সবচেয়ে বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি হলো কওমি মাদ্রাসা ব্যবস্থা। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে ২০২২ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ২,২৫,৬৩১; ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৪৯,৭৭৬-এ। দেশে স্বীকৃত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ৬০ হাজারেরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়। সারাদেশে লক্ষাধিক আলেম এই মাদ্রাসাগুলো থেকে পড়াশোনা শেষ করে ইমাম, খতিব, মুহাদ্দিস, শিক্ষক ও দাওয়াহ কর্মী হিসেবে সমাজে কাজ করেন।

কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে কুরআন, হাদিস, ফিকহ, আরবি সাহিত্য, যুক্তি ও বিতর্কশাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত। গ্র্যাজুয়েটরা দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন, যার সরকারি স্বীকৃতি ইসলামি স্টাডিজে স্নাতকোত্তর সমমানের। এই মাদ্রাসাগুলো মসজিদকেন্দ্রিক জনসংযোগ, ওয়াজ মাহফিল এবং স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় পরামর্শদানের মাধ্যমে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়। হাটহাজারী মাদ্রাসা (দারুল উলূম হাটহাজারী) ও ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া等国 중요한 कওমি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।


🚶 তাবলিগ জামাত: গণসংযোগের সর্ববৃহৎ প্ল্যাটফর্ম

তাবলিগ জামাত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের সবচেয়ে বড় অরাজনৈতিক গণআন্দোলন। প্রতি বছর ঢাকার তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা是世界 দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশ, যেখানে ২০ লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন। তাবলিগ জামাতের মূল পদ্ধতি হলো গাশ্ত—ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মসজিদে মসজিদে গিয়ে মানুষকে নামাজ, জিকির ও ইসলামি জীবনযাপনের আহ্বান জানানো। এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এর লক্ষ্য আত্মশুদ্ধি ও ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের বিধান মেনে চলা। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের সদস্য সংখ্যা লক্ষাধিক এবং এটি দেওবন্দি ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।


🏛️ রাজনৈতিক ইসলামি দল ও আন্দোলন

কিছু প্রতিষ্ঠান ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও কাজ করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

🗳️ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

দেশের সবচেয়ে পুরনো ও সুসংগঠিত ইসলামি রাজনৈতিক দল। জামায়াতের ঘোষিত লক্ষ্য হলো ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। দলটি দাওয়াহ কার্যক্রম, অধ্যয়নচক্র, প্রশিক্ষণ শিবির ও প্রকাশনা-ব্রোশিওরের মাধ্যমে ইসলামি চেতনা ছড়িয়ে দেয়। সমালোচকরা বলেন, জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডা ধর্মপ্রচারের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক; তবে দলটি নিজেদের ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করে।

✊ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

২০১০ সালে চট্টগ্রামে কওমি আলেমদের নেতৃত্বে গঠিত হেফাজতে ইসলাম ইসলামি মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও ধর্মনিরপেক্ষ-উদারনীতির বিরোধিতার মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা, জনসমাবেশ, বিক্ষোভ ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের এজেন্ডা প্রচার করে। হেফাজত কওমি ধারার ঐতিহ্যবাহী আলেমদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিভিন্ন সময়ে শরিয়াভিত্তিক শাসন, কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা等 দাবি জানিয়েছে।

🕊️ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

চরমোনাই পিরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি ইসলামি রাজনৈতিক দল, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিয়ে শরিয়াভিত্তিক শাসন ও নৈতিক শাসনব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেয়। দলটির কর্মীরা ওয়াজ মাহফিল, পথসভা ও ধর্মীয় সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের কাছে ইসলামি বার্তা পৌঁছে দেয়।


📖 আহলে হাদিস আন্দোলন: হাদিসকেন্দ্রিক সংস্কারবাদী ধারা

আহলে হাদিস Bewegung উনিশ শতকের ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কারবাদী ধারা থেকে উদ্ভূত, যা চার মাজহাবের অনুসরণের পরিবর্তে সরাসরি কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যায় গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশে এই ধারার অন্যতম প্রতিষ্ঠান আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ, যা দেশজুড়ে দাওয়াহ সেন্টার ও মারকাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হাদিসভিত্তিক ইসলামের শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়。১৯৮০-এর দশকে এই আন্দোলনের প্রায় দুই হাজার শাখা ও বিশ লক্ষ অনুসারী ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। আহলে হাদিসরা মাজার-দরগাহ জিয়ারতের মতো প্রচলিত pratiques-এর বিরোধিতা করে সরল ও হাদিসনির্ভর ইসলামি জীবনের আহ্বান জানায়。


🏛️ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের মূল্যবোধ ও আদর্শ প্রচারের দায়িত্ব পালন করে। প্রতিষ্ঠানটি মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম, কুরআন শিক্ষা, ইসলামি প্রকাশনা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দাওয়াহ পরিচালনা করে。দেশে প্রায় আড়াই লক্ষ মসজিদের একটি বড় অংশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। সরকার সম্প্রতি ফাউন্ডেশনটিকে একটি ডিরেক্টরেটে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ইসলামি শিক্ষা ও প্রচারব্যবস্থাকে আরও কেন্দ্রীভূত করতে পারে।


📊 তুলনামূলক চিত্র: কে কীভাবে প্রচার করে?

প্রতিষ্ঠান/ধারা মূল পদ্ধতি রাজনৈতিক না অরাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্র
সুফি/পির-মুরিদি খানকাহ, ওয়াজ, ব্যক্তিগত দীক্ষা অরাজনৈতিক (বেশিরভাগ) ঐতিহাসিক ও লোকজ ইসলাম
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা, ইমামতি, ফতোয়া, ওয়াজ মূলত অরাজনৈতিক, তবে হেফাজতের সঙ্গে সম্পর্কিত গ্রামীণ ও মফস্বল সমাজ
তাবলিগ জামাত গাশ্ত, ইজতেমা, আত্মশুদ্ধি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক গণস্তরের ব্যক্তিগত জীবন
জামায়াতে ইসলামী দাওয়াহ + রাজনৈতিক কর্মসূচি রাজনৈতিক শহর ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত
হেফাজতে ইসলাম জনসমাবেশ, দাবি আদায়, মাদ্রাসা রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলন কওমি আলেম ও মাদ্রাসা-সম্পর্কিত জনগোষ্ঠী
ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনী রাজনীতি + ধর্মীয় সমাবেশ রাজনৈতিক চরমোনাই অনুসারী ও বিস্তৃত জনগোষ্ঠী
আহলে হাদিস দাওয়াহ সেন্টার, হাদিস শিক্ষা অরাজনৈতিক (মূলত) উত্তরবঙ্গ ও শহরাঞ্চল
ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি, প্রকাশনা, মসজিদ রাষ্ট্রীয় দেশব্যাপী মসজিদ ও সরকারি উদ্যোগ

(উপরের শ্রেণিবিভাগটি সরলীকৃত; বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যক্রমের ওভারল্যাপ রয়েছে।)


❓ সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১. ❓ বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান কোনটি?

উত্তর: কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে “সবচেয়ে বড়” বলা কঠিন, কারণ প্রচারের মাপকাঠি ভিন্ন ভিন্ন। তবে কওমি মাদ্রাসা নেটওয়ার্ক শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যায় সর্ববৃহৎ; তাবলিগ জামাত গণসংযোগে সর্ববৃহৎ; আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বাধিক বিস্তৃত।

২. ❓ তাবলিগ জামাত কি রাজনৈতিক?

উত্তর: না। তাবলিগ জামাত নিজেদের অরাজনৈতিক বলে দাবি করে। এর মূল লক্ষ্য ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধি ও ইসলামি জীবনযাপনের আহ্বান, রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল নয়।

৩. ❓ হেফাজতে ইসলাম কি কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব করে?

উত্তর: হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব মূলত কওমি আলেমদের হাতে, এবং এর 사회ভিত্তি কওমি মাদ্রাসা-সম্পর্কিত জনগোষ্ঠী। তবে সব কওমি মাদ্রাসা হেফাজতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়; অনেক মাদ্রাসা অরাজনৈতিক থাকে।

৪. ❓ সুফিরা কি এখনো ইসলাম প্রচার করে?

উত্তর: হ্যাঁ। বিভিন্ন সুফি তরিকা ও পির-পরিবার খানকা, দরগাহ, ওয়াজ মাহফিল ও ব্যক্তিগত সংস্পর্শের মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষা ও আধ্যাত্মিকতা প্রচার করে চলেছে। ঢাকা আহসানিয়া মিশনের মতো সংগঠন সুফি আদর্শে শিক্ষা ও সেবা কার্যক্রম চালায়।

৫. ❓ আহলে হাদিসরা কি সুফিদের বিরোধিতা করে?

উত্তর: আহলে হাদিস ধারা মাজার-দরগাহ কেন্দ্রিক pratiques ও কিছু সুফি রীতির সমালোচনা করে এবং সরাসরি কুরআন-হাদিসের অনুসরণের উপর জোর দেয়। তবে এটি সব সুফি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত নয়; মতপার্থক্য মূলত ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যায়।

৬. ❓ জামায়াতে ইসলামী কি শুধু রাজনৈতিক দল, নাকি ধর্মপ্রচারকও?

উত্তর: জামায়াতে ইসলামী একটি রাজনৈতিক দল, তবে এর সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে দাওয়াহ (ইসলামের বাণী প্রচার) একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দলটি ইসলামি সমাজ গঠনের লক্ষ্যে উভয় ধরনের কার্যক্রমই পরিচালনা করে।

৭. ❓ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কি সরকারি নিয়ন্ত্রণে?

উত্তর: হ্যাঁ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যার পরিচালনা পর্ষদে সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব থাকেন। সরকার সম্প্রতি এটি को ডিরেক্টরেটে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।

৮. ❓ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কী কাজ করে?

উত্তর: বেশিরভাগ কওমি গ্র্যাজুয়েট ইমাম, খতিব, মাদ্রাসা শিক্ষক, মুয়াজ্জিন, ওয়াজ মাহফিলের বক্তা এবং স্থানীয় ধর্মীয় পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন। একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কওমি গ্র্যাজুয়েট বেকার বা অপ্রতুল কর্মসংস্থানে আছেন।

৯. ❓ বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে নারীদের ভূমিকা আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ। বিভিন্ন ইসলামি আন্দোলন ও দলের মহিলা শাখা (যেমন জামায়াতের ছাত্রী সংগঠন) ইসলামি অধ্যয়নচক্র ও দাওয়াহ কার্যক্রমে সক্রিয়। এছাড়া মাদ্রাসায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক শাখা রয়েছে।

১০. ❓ ইসলাম প্রচার ও জঙ্গিবাদ কি একই?

উত্তর: না। সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম প্রচারক গোষ্ঠী শান্তিপূর্ণ দাওয়াহ, শিক্ষা ও সমাজসেবার মাধ্যমে কাজ করে। তবে কিছু উগ্রগোষ্ঠী (যেমন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) ধর্মের নামে সহিংসতা চালিয়েছে, যাদের সঙ্গে মূলধারার প্রচারকদের সম্পর্ক নেই বা তারা এর নিন্দা জানিয়েছে। এই পার্থক্য বোঝা জরুরি।


📌 মূল টেকঅওয়ে (Key Takeaways)

  • বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার কোনো একক গোষ্ঠীর একচেটিয়া কাজ নয়; এটি বহুকেন্দ্রিক ও বহুধারার।

  • কওমি মাদ্রাসা ব্যবস্থা সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, যা লক্ষাধিক আলেম তৈরি করে যারা সমাজে ধর্মীয় নেতৃত্ব দেন।

  • তাবলিগ জামাত অরাজনৈতিক গণআন্দোলন হিসেবে সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়; বিশ্ব ইজতেমা এর প্রধান প্রকাশ।

  • রাজনৈতিক ইসলামি দল (জামায়াত, হেফাজত, ইসলামী আন্দোলন) প্রচারের সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতা ও নীতিগত এজেন্ডাও যুক্ত করে।

  • সুফি ধারা ঐতিহাসিকভাবে বাংলায় ইসলাম প্রসারের মূল চালিকাশক্তি ছিল এবং আজও আধ্যাত্মিক দীক্ষা ও সমাজসেবার মাধ্যমে সক্রিয়।

  • আহলে হাদিস ধারা হাদিসকেন্দ্রিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রচার চালায় এবং কিছু প্রচলিত রীতির সমালোচনা করে।

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রীয়ভাবে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ও প্রকাশনার মাধ্যমে দাওয়াহ পরিচালনা করে।

  • ইসলাম প্রচার ও সহিংস উগ্রবাদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে; সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রচারক শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে কাজ করেন।


✅ উপসংহার

“বাংলাদেশে ইসলাম প্রধানত কারা প্রচার করে?”—এর উত্তর কোনো একটি নামে সীমাবদ্ধ নয়। ঐতিহাসিক সুফি দরবেশদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-ইমামদের নেটওয়ার্ক, তাবলিগ জামাতের গণসংযোগ, রাজনৈতিক ইসলামি দলগুলোর আদর্শিক প্রচার, আহলে হাদিসের সংস্কারবাদী দাওয়াহ এবং রাষ্ট্রীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের একটি বহস্তরীয় বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই বৈচিত্র্য বোঝা জরুরি, কারণ এটি না বুঝলে বাংলাদেশের ধর্মীয় সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির গতিপথ ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে মনে রাখা দরকার, প্রচারের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সহনশীলতা রক্ষা করা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক শর্ত।


📚 তথ্যসূত্র (References)

  1. Shafi Md Mostofa, Institutions of Political Islam in Bangladesh: Histories, Agendas, and Strategies, Routledge, 2024 — Jamaat-e-Islami, Hefazat, Tablighi Jamaat, Islami Andolon প্রভৃতির বিশ্লেষণ। https://www.taylorfrancis.com/books/mono/10.4324/9781003310839/institutions-political-islam-bangladesh-shafi-md-mostofa

  2. Saeyd Rashed Hasan Chowdury, “Unveiling Sufi Legacies in Dhaka of Bangladesh: A Chronological Discourse on Islamic Heritage”, Ulumuna, Vol. 28, No. 2, 2024। https://ulumuna.or.id/index.php/ujis/article/download/873/417/

  3. Md Mahmudul Hasan, “The case for a database that can transform our madrasa workforce”, The Daily Star, 31 March 2026। https://www.thedailystar.net/opinion/news/the-case-database-can-transform-our-madrasa-workforce-4139521

  4. “সারা পৃথিবীর কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ৬০ শতাংশই বাংলাদেশে”, দৈনিক শিক্ষা, 18 July 2026। https://www.dainikshiksha.com

  5. “Enrolment falls at schools, colleges, rises at madrassahs”, New Age, 2 October 2026। https://www.newagebd.net

  6. “শতবর্ষী আলোর মিনার দারুল উলূম হাটহাজারী”, যুগান্তর, 16 May 2025। https://www.jugantor.com

  7. “World’s 2nd-largest religious congregation begins in Bangladesh”, Anadolu Agency, 13 January 2023। https://www.aa.com.tr

  8. “Bishwa Ijtema”, Wikipedia — Tablighi Jamaat-এর বার্ষিক সমাবেশের তথ্য। https://en.wikipedia.org/wiki/Bishwa_Ijtema

  9. “Tablighi Jamaat in Bangladesh and the UK: an ethnographic study of an Islamic reform movement”, Google Scholar। https://scholar.google.be

  10. “Hefazat-e-Islam: History, Agenda and Strategies”, in Institutions of Political Islam in Bangladesh, Routledge, 2024। https://www.taylorfrancis.com

  11. “Hefazat-e-Islam Holds Rally in Dhaka, Demands Abolition of Women’s Affairs Reform Commission”, NewsOnAir, 3 November 2025। https://www.newsonair.gov.in

  12. “হেফাজতে ইসলাম কী চেয়েছে বিএনপি সরকারের কাছে?”, BBC News বাংলা, 9 August 2026। https://www.bbc.com

  13. Jamaat-e-Islami Bangladesh-এর দাওয়াহ বিষয়ক প্রতিবেদন, দলীয় ওয়েবসাইট, 11 May 2024। https://www.jamaat-e-islami.org

  14. “Islami Andolon unveils manifesto pledging Islamic principles in governance”, The Daily Star, 4 February 2026। https://online92.thedailystar.net

  15. “Islamic Foundation Board of Governors reconstituted with Religious Affairs Minister as Chairman”, BSS, 3 September 2026। https://www.bssnews.net

  16. “Islamic Foundation Bangladesh”, Wikipedia — রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। https://en.wikipedia.org/wiki/Islamic_Foundation_Bangladesh

  17. “Islamic Foundation to lose autonomy”, The Observer, 23 October 2026। https://observerbd.com

  18. “Anjuman-E Rahmania Ahmadia Sunnia” ও “Dhaka Ahsania Mission”, in Faith and Education in Bangladesh: A Review of the Contemporary Landscape, BRAC University, 2021। https://cpj.bracu.ac.bd

  19. “Ahl-i Hadith”, Oxford Reference — বাংলাদেশে আহলে হাদিস আন্দোলনের প্রসার। https://www.oxfordreference.com

  20. “আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ” — সংগঠনের официальный ওয়েবসাইট, দাওয়াহ কার্যক্রমের বর্ণনা। https://www.ahlehadeethbd.com

  21. “বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন”, উইকিপিডিয়া — দাঈদের সংগঠন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। https://bn.wikipedia.org

  22. “শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার: এক আধ্যাত্মিক দরবেশ যোদ্ধা”, যুগান্তর, 14 September 2025। https://www.jugantor.com

  23. “ইসলাম, বাংলায়”, বাংলাপিডিয়া — বাংলায় ইসলামের ঐতিহাসিক প্রসার। https://bn.banglapedia.org

  24. “বদরুদ্দীন, আল্লামা”, বাংলাপিডিয়া — চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচারক। https://bn.banglapedia.org

  25. “Sufism, Modernisation, and Social Transformation: The Impact”, TR Dizin, 15 March 2025 — চট্টগ্রামে সুফিদের ভূমিকা। https://search.trdizin.gov.tr

  26. “Political Salafism in South Asia”, 2022 — আহলে হাদিসের রাজনৈতিক মাত্রা। https://www.iiu.edu.pk

  27. “Islami Andolon Bangladesh”, BSS নির্বাচনী প্রতিবেদন, 31 January 2026। https://www.bssnews.net

  28. “Govt, ruling party in Bangladesh control mosques: US”, New Age, 7 April 2026 — রাষ্ট্রীয় মসজিদ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে। https://www.newagebd.net

  29. “Enrolment in schools declines, rises in Madrasas”, Agami Somoy, 19 October 2026। https://www.agamirsomoy.com

  30. “61.7 pc students passed Alim examinations”, BSS, 31 October 2026 — মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য। https://www.bssnews.net

Was it helpfull? Rate this article:
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 5.00 out of 5)

Loading...

Scroll to Top