ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ❤️Ishwar Chandra Vidyasagar➡️

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

🕯️ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঊনবিংশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে সংস্কৃত পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, গদ্যকার, অনুবাদক ও জনহিতৈষী ছিলেন। দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করে অগাধ মেধা ও অধ্যবসায়ের বলে তিনি বাংলা ভাষা ও সমাজের ভিত্তি গড়ে তোলায় যে ভূমিকা রেখেছেন, তা চিরস্মরণীয়। বাংলা গদ্যকে তিনি প্রথম সার্থক শিল্পরূপ দান করেন, বিধবা বিবাহ ও নারীশিক্ষার মতো সমাজ সংস্কারে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন এবং ‘দয়ার সাগর’ নামে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন। এই ভুক্তিতে তাঁর জীবনী, শিক্ষা, সাহিত্যকর্ম, সমাজ সংস্কার, ব্যক্তিত্ব ও উত্তরাধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

👶 জন্ম, পারিবারিক পরিচয় ও শিক্ষাজীবন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর (১২ আশ্বিন ১২২৭ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে। তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন দরিদ্র ও সংগ্রামী মানুষ, এবং মাতা ভগবতী দেবী ছিলেন ধর্মপরায়ণ ও স্নেহময়ী নারী। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও তিনি তাঁর মেধা, কঠোর পরিশ্রম ও সততার দ্বারা অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তাঁকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি কলকাতায় আসেন এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলংকার, বেদান্ত, ন্যায়, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন ও ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং প্রতি বছরই বৃত্তি ও গ্রন্থ লাভ করেন।

🎓 ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ

সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে ভূষিত করে। এই উপাধি লাভের পর তিনি সারাজীবন তা সার্থক করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৮৪১ সালের ডিসেম্বরে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার পর তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পণ্ডিতের পদ লাভ করেন। ১৮৪৬ সালে সংস্কৃত কলেজে সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু কলেজের শিক্ষকদের রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে ১৮৪৭ সালে ইস্তফা দেন। ১৮৫০ সালের ডিসেম্বরে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক এবং পরের মাসে অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

🏫 শিক্ষা সংস্কার ও কর্মজীবন

অধ্যক্ষ হিসেবে বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজে বহু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন। পূর্বে এই কলেজে কেবল ব্রাহ্মণ ও বৈদ্য ছাত্রদের পড়ার অধিকার ছিল, কিন্তু তিনি সব শ্রেণীর হিন্দুদের জন্য কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করেন। তিনি নামেমাত্র বেতন চালু করেন এবং প্রতিপদ ও অষ্টমীর বদলে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি প্রবর্তন করেন। তিনি সংস্কৃতের বদলে বাংলার মাধ্যমে ব্যাকরণ এবং ইংরেজির মাধ্যমে গণিত পড়ানোর নিয়ম চালু করেন এবং ইংরেজি ভাষা শেখাকে বাধ্যতামূলক করেন। দর্শন পাঠ্যক্রমেও তিনি বড় পরিবর্তন আনেন— সাংখ্য ও বেদান্ত দর্শনকে প্রাচীনপন্থী বলে বিবেচনা করে পাশ্চাত্য দর্শনের চর্চা বাড়ানোর সুপারিশ করেন।

১৮৫৪ সালে চার্লস উডের শিক্ষা সনদ গৃহীত হওয়ার পর ১৮৫৫ সালের মে মাসে বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদের অতিরিক্ত সহকারী স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর তিনি নদীয়া, বর্ধমান, হুগলি ও মেদিনীপুর জেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং দুবছরের মধ্যে কুড়িটি স্কুল স্থাপন করেন। শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য তিনি একটি নর্মাল স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন।

✍️ বাংলা গদ্য ও সাহিত্যকর্ম

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার বলা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বিখ্যাত শিশুপাঠ্য গ্রন্থ ‘বর্ণপরিচয়’ (১৮৫৫) বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী রচনা। কথিত আছে, মফস্বলে স্কুল পরিদর্শনে যাওয়ার সময় পাল্কিতে বসে তিনি ‘বর্ণপরিচয়’-এর পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। এছাড়া ‘ঋজুপাঠ’ (১৮৫১-৫২), ‘সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা’ (১৮৫১), ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ (১৮৫৩)-সহ একাধিক শিক্ষামূলক গ্রন্থ তিনি রচনা করেন। ‘আদর্শলিপি’ এবং ‘আখ্যানমঞ্জরী’ (১৮৬৭)-ও তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুপাঠ্য ও নীতিশিক্ষামূলক রচনা।

তাঁর অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হিন্দি থেকে ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭), সংস্কৃত থেকে ‘শকুন্তলা’ (১৮৫৪), ‘সীতার বনবাস’ (১৮৬০), ‘মহাভারতের উপক্রমণিকা’ (১৮৬০), ‘বামনাখ্যানম্’ (১৮৭৩) এবং ইংরেজি থেকে ‘বাঙ্গালার ইতিহাস’ (১৮৪৮), ‘জীবনচরিত’ (১৮৪৯), ‘নীতিবোধ’ (১৮৫১), ‘বোধোদয়’ (১৮৫১), ‘কথামালা’ (১৮৫৬), ‘চরিতাবলী’ (১৮৫৭), ‘ভ্রান্তিবিলাস’ (১৮৬১) ইত্যাদি।

📖 শকুন্তলা অনুবাদ

‘শকুন্তলা’ (১৮৫৪) হলো কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ নাটকের গদ্য অনুবাদ। বিদ্যাসাগরের সাহিত্যকীর্তির মূল ভিত্তি ছিল তাঁর অনুবাদ দক্ষতা, তবে তিনি আক্ষরিক অনুবাদ না করে ভাবানুবাদ করেছেন— ‘শকুন্তলা’ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কালিদাসের নাটককে তিনি গদ্যের আঙ্গিকে রূপান্তরিত করেছেন, যেখানে মৌলিক শিল্পী বিদ্যাসাগরকে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলা, এবং শকুন্তলার দুই সহচরী অনসূয়া ও প্রিয়ংবদা।

⚖️ সমাজ সংস্কার: বিধবা বিবাহ, নারীশিক্ষা ও বহুবিবাহ বিরোধী আন্দোলন

বিদ্যাসাগরের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রশংসিত অবদান হলো বিধবা বিবাহ প্রবর্তন। ঊনবিংশ শতকের বাংলায় হিন্দু বিধবাদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। বিদ্যাসাগর শাস্ত্রীয় প্রমাণের ভিত্তিতে বিধবা বিবাহের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। ১৮৫৫ সালের জানুয়ারিতে ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ প্রথম পুস্তক প্রকাশিত হয় এবং একই বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় পুস্তক প্রকাশিত হয়। তাঁর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালের ১৬ জুলাই বিধবা বিবাহ আইনসম্মত হয়। এরপর ১৮৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর কলকাতার ১২, সুকিয়া স্ট্রিটে প্রথম বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। বহু বিধবার বিবাহে তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন, যার ফলে তাঁর ওপর প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঋণভার চেপে বসে। নিজের পুত্র নারায়ণকে বিধবা কন্যার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

নারীশিক্ষার প্রসারেও বিদ্যাসাগরের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ড্রিংকওয়াটার বিটনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তিনি কলকাতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভারতের প্রথম ভারতীয় বালিকা বিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৮৫৭ সালের নভেম্বর থেকে ১৮৫৮ সালের মে মাসের মধ্যে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে তিনি ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়া বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ দূরীকরণেও তিনি আজীবন সংগ্রাম করেন।

🧭 ব্যক্তিত্ব, চরিত্র ও অজানা তথ্য

বিদ্যাসাগরের চরিত্র ছিল আপসহীন ও নীতিনিষ্ঠ। তিনি কর্তব্যকর্মে অবহেলার কারণে স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দকেও এক মাসের মধ্যে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। নিজের জামাইকে বিদ্যালয় তহবিলে সামান্য গরমিলের কারণে অপসারণ করেন। পুত্র নারায়ণ বিধবা বিবাহ করতে সম্মত হলে পরিবারের বিরাগ সত্ত্বেও তিনি সেই বিবাহ সম্পন্ন করেন, আবার পুত্রের চরিত্রগত অবনতি দেখে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কও ত্যাগ করেন। এই কঠোর নীতিবোধের কারণে তিনি ‘দয়ার সাগর’ নামে পরিচিত হয়েছেন; দরিদ্র, আর্ত ও পীড়িত কেউই তাঁর দ্বার থেকে শূন্য হাতে ফিরে যেত না। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর মধ্যে দেখতে পেয়েছিলেন প্রাচীন ঋষির প্রজ্ঞা, ইংরেজের কর্মোদ্দম ও বাঙালি মায়ের হৃদয়বৃত্তির মিশ্রণ।

🕉️ রামকৃষ্ণের সঙ্গে সাক্ষাৎ

১৮৮২ সালের ৫ আগস্ট বিকেল চারটায় রামকৃষ্ণ পরমহংস বিদ্যাসাগরের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তখন বিদ্যাসাগরের বয়স ৬২ বছর এবং রামকৃষ্ণের ৪৬ বছর। এই সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায় চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্যাসাগর’ বইতে। রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, “খানা ডোবা খাল বিল পার হইয়া এইবার সাগরে আসিয়া পড়িলাম।” জবাবে বিদ্যাসাগর বলেছিলেন, “এসে পড়েছেন, আর তো উপায় নেই, দুই-এক ঘটি নোনা জল তুলিয়া লইয়া যান, এ সাগরে নোনাজল ভিন্ন আর কিছুই পাইবেন না।” রামকৃষ্ণ প্রত্যুত্তরে বলেন, “আপনি তো আর অবিদ্যার সাগর নহেন, আপনি বিদ্যার সাগর।” তবে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি সম্বন্ধে বিদ্যাসাগরের আগ্রহ ছিল না দেখে রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, “বিদ্যাসাগরের বিদ্যা আছে, দয়া আছে, কিন্তু অন্তর্দৃষ্টি নেই।”

📜 মধুসূদন দত্তের ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতা

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতাটি ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ (১৮৬৬) কাব্যগ্রন্থের ৮৬ সংখ্যক কবিতা। এই কবিতায় বিদ্যাসাগরকে ‘বিদ্যার সাগর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং তাঁকে ‘দীনের বন্ধু’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। কবিতাটি চতুর্দশপদী ছন্দে রচিত, যেখানে ১৪টি চরণ থাকে। একাদশ শ্রেণির (WBCHSE) বাংলা সিলেবাসে এই কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে শিক্ষার্থীদের MCQ ও বড় প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে হয়।

🏛️ মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই (১৩ শ্রাবণ ১২৯৭ বঙ্গাব্দ) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্মৃতিরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কলকাতার আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বিদ্যাসাগর সেতু তাঁর নামে উৎসর্গিত। তাঁর স্বরচিত জীবনী ‘বিদ্যাসাগর চরিত’ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, যা পরে তাঁর পুত্র নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্ন প্রকাশ করেন।

💎 মূল Takeaways

  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও মেধা ও অধ্যবসায়ে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি অর্জন করেন এবং বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

  • তিনি বাংলা লিপি সংস্কার করে সহজপাঠ্য করেন এবং ‘বর্ণপরিচয়’, ‘আদর্শলিপি’, ‘আখ্যানমঞ্জরী’-এর মতো যুগান্তকারী শিশুপাঠ্য গ্রন্থ রচনা করেন।

  • বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা বাংলার নারীসমাজের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।

  • নারীশিক্ষার প্রসারে তিনি ভারতের প্রথম ভারতীয় বালিকা বিদ্যালয়সহ ৩৫টিরও বেশি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

  • শিক্ষা সংস্কারক হিসেবে তিনি সংস্কৃত কলেজের পাঠক্রমে পরিবর্তন আনেন এবং গ্রামে-গঞ্জে বহু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

  • তাঁর আপসহীন চরিত্র ও পরোপকারী মনোভাবের জন্য তিনি ‘দয়ার সাগর’ নামে পরিচিত হন।

📝 উপসংহার

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি যুগের প্রতীক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তিনি যে ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে গেছেন, তা আজও বাঙালির সাহিত্য-চর্চার মূল ভিত্তি। সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান— বিশেষত বিধবা বিবাহ ও নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে— বাংলার নারীসমাজের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তাঁর নীতিনিষ্ঠা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও মানবপ্রেম আজও প্রতিটি শিক্ষিত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বিদ্যাসাগরের জীবন ও কর্ম আমাদের শেখায় যে প্রকৃত উন্নতি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যে নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে নিহিত।


ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

❓ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পর্কে ৫০টি সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম কত সালে?
উত্তর: ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।

২. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান কোথায়?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে।

৩. তাঁর পিতার নাম কী?
উত্তর: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

৪. তাঁর মাতার নাম কী?
উত্তর: ভগবতী দেবী।

৫. তাঁর প্রকৃত নাম কী ছিল?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

৬. তিনি ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি কখন ও কীভাবে পান?
উত্তর: ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য এই উপাধি লাভ করেন।

৭. তিনি কোন কলেজে পড়াশোনা করেন?
উত্তর: কলকাতা গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে।

৮. তিনি কোন কোন বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন?
উত্তর: ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলংকার, বেদান্ত, ন্যায়, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন ও ইংরেজি।

৯. তাঁর প্রথম কর্মজীবন কোথায় শুরু হয়?
উত্তর: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিত হিসেবে।

১০. তিনি কখন সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হন?
উত্তর: ১৮৫০ সালের ডিসেম্বরে অধ্যাপক এবং পরের মাসে অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

১১. তিনি বাংলা গদ্যের কী হিসেবে পরিচিত?
উত্তর: বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার এবং রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী’।

১২. তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত শিশুপাঠ্য গ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: ‘বর্ণপরিচয়’ (১৮৫৫)।

১৩. তিনি কীভাবে ‘বর্ণপরিচয়’ রচনা করেন?
উত্তর: কথিত আছে, মফস্বলে স্কুল পরিদর্শনে যাওয়ার সময় পাল্কিতে বসে তিনি এর পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন।

১৪. তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষামূলক গ্রন্থগুলো কী কী?
উত্তর: ‘বর্ণপরিচয়’, ‘ঋজুপাঠ’, ‘সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা’, ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’, ‘আদর্শলিপি’, ‘আখ্যানমঞ্জরী’ ইত্যাদি।

১৫. তিনি কোন কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করেন?
উত্তর: সংস্কৃত, হিন্দি ও ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।

১৬. তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থগুলো কী কী?
উত্তর: ‘শকুন্তলা’, ‘সীতার বনবাস’, ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’, ‘কথামালা’, ‘চরিতাবলী’, ‘ভ্রান্তিবিলাস’ ইত্যাদি।

১৭. তিনি কোন সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন?
উত্তর: বিধবা বিবাহ, নারীশিক্ষা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ বিরোধী আন্দোলন।

১৮. বিধবা বিবাহ আইন কত সালে পাস হয়?
উত্তর: ১৮৫৬ সালের ১৬ জুলাই।

১৯. প্রথম বিধবা বিবাহ কখন ও কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৮৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর কলকাতার ১২, সুকিয়া স্ট্রিটে।

২০. প্রথম বিধবা বিবাহে পাত্র ও পাত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: পাত্র ছিলেন শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন এবং পাত্রী ছিলেন কালীমতী।

২১. বিধবা বিবাহের পক্ষে তিনি কীভাবে শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেন?
উত্তর: তিনি শাস্ত্রবচনের ভিত্তিতে প্রমাণ করেন যে বিধবা বিবাহ শাস্ত্রসম্মত।

২২. বিধবা বিবাহে তিনি কত টাকা ঋণগ্রস্ত হন?
উত্তর: প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

২৩. নারীশিক্ষার জন্য তিনি কী কী পদক্ষেপ নেন?
উত্তর: হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষিণবঙ্গে ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন।

২৪. ভারতের প্রথম ভারতীয় বালিকা বিদ্যালয় কোনটি?
উত্তর: কলকাতার হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়, যা বিদ্যাসাগর ও ড্রিংকওয়াটার বিটন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।

২৫. তিনি কতটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৮৫৭-৫৮ সালের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে ৩৫টি।

২৬. তিনি গ্রামে কতটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: দুই বছরের মধ্যে কুড়িটি স্কুল।

২৭. তিনি কোন পত্রিকা প্রকাশ করেন?
উত্তর: ১৮৫০ সালে ‘সব শুভকরী’ পত্রিকা প্রকাশ করেন।

২৮. ‘সব শুভকরী’ পত্রিকার বিশেষত্ব কী?
উত্তর: এর প্রথম সংখ্যায় ‘বাল্যবিবাহের দোষ’ নামে একটি বাংলা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

২৯. তিনি কোন বিদ্যালয়ের পরিদর্শক নিযুক্ত হন?
উত্তর: ১৮৬৩ সালে ওয়ার্ডস ইনস্টিটিউশনের পরিদর্শক।

৩০. তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো মনোনীত হন?
উত্তর: ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো।

৩১. মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁকে কোন কাব্য উৎসর্গ করেন?
উত্তর: ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য (১৮৬২)।

৩২. তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্তকে কীভাবে সাহায্য করেন?
উত্তর: ১৮৬৪ সালে ফ্রান্সে ঋণগ্রস্ত মধুসূদনকে ১৫০০ টাকা পাঠান।

৩৩. তিনি কোন সমাজ সংস্কারকদের সমসাময়িক ছিলেন?
উত্তর: রামমোহন রায়, ডিরোজিও, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারক।

৩৪. তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: আপসহীন নীতিনিষ্ঠা ও কর্তব্যনিষ্ঠা।

৩৫. তিনি কেন ‘দয়ার সাগর’ নামে পরিচিত?
উত্তর: দরিদ্র, আর্ত ও পীড়িত মানুষকে সর্বদা সাহায্য করার জন্য।

৩৬. স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক ছিল?
উত্তর: বিদ্যাসাগর পরিচালিত মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে বিবেকানন্দ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান, কিন্তু কর্তব্যে অবহেলার কারণে এক মাসের মধ্যে বরখাস্ত হন।

৩৭. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক ছিল?
উত্তর: তিনি সুরেন্দ্রনাথকে চাকরি দিলেও নিষ্ঠার অভাবে পরে সরিয়ে দেন।

৩৮. তিনি কোন আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন?
উত্তর: বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে।

৩৯. বহুবিবাহ রদের জন্য তিনি কী পদক্ষেপ নেন?
উত্তর: ১৮৬৬ ও ১৮৭১ সালে ভারতীয় ব্যবস্থাপক সভার কাছে আবেদনপত্র পাঠান।

৪০. তাঁর রচিত মৌলিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে有哪些?
উত্তর: ‘সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব’, ‘বিধবা বিবাহ…’, ‘বহুবিবাহ…’, ‘অতি অল্প হইল’, ‘আবার অতি অল্প হইল’ ইত্যাদি।

৪১. তিনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠক্রম সংস্কারে ভূমিকা রাখেন?
উত্তর: সংস্কৃত কলেজের পাঠক্রমে।

৪২. তিনি কোন দর্শনের পরিবর্তে পাশ্চাত্য দর্শনের চর্চা বাড়ানোর সুপারিশ করেন?
উত্তর: বেদান্ত ও সাংখ্য দর্শনের পরিবর্তে।

৪৩. তাঁর মৃত্যু কত সালে হয়?
উত্তর: ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই।

৪৪. তাঁর স্মৃতিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫. কোন সেতুর নাম তাঁর নামে রাখা হয়েছে?
উত্তর: কলকাতার বিদ্যাসাগর সেতু।

৪৬. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে কী বলে অভিহিত করেন?
উত্তর: ‘বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী’।

৪৭. শ্রীঅরবিন্দ তাঁর সম্পর্কে কী বলেছেন?
উত্তর: তিনি বিদ্যাসাগরের ভাষা-কৃতিত্বকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

৪৮. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর সম্পর্কে কী মত পোষণ করতেন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র বিদ্যাসাগরী ভাষার চাল অপছন্দ করতেন, কিন্তু তাঁর কৃতিত্বকে খাটো করেননি।

৪৯. তিনি কোন সামাজিক সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়?
উত্তর: বিধবা বিবাহ ও নারীশিক্ষার প্রসারে।

৫০. বাংলা ভাষার ইতিহাসে তাঁর স্থান কী?
উত্তর: তিনি বাংলা গদ্যের ভিত্তি নির্মাতা এবং বাংলা ভাষাকে সিস্টেমিক গুরুত্ব দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বত্র উপযোগী করে তোলেন।


📚 তথ্যসূত্র (References)

  1. teachers.gov.bd, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর” — https://www.teachers.gov.bd/content/details/948047

  2. bn.wikisource.org, “লেখক:ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর” — https://bn.wikisource.org/wiki/লেখক:ঈশ্বরচন্দ্র_বিদ্যাসাগর

  3. wbshiksha.com, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবিতার প্রশ্ন উত্তর MCQ | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | Class 11” — https://wbshiksha.com/ishwar-chandra-vidyasagar-mcq-question-answer/

  4. rokomari.com, “কালিদাসের শকুন্তলা – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর” — https://www.rokomari.com/book/80757/kalidaser-sokuntola

  5. teachers.gov.bd, “আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদ্বিশতবর্ষ” — https://teachers.gov.bd/content/details/708225

  6. shodhganga.inflibnet.ac.in, “বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী” — https://shodhganga.inflibnet.ac.in/bitstream/10603/294194/6/06_chapter3.pdf

  7. teachers.gov.bd, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর – ২৬ মে, ২০২১” — https://teachers.gov.bd/content/details/953109

  8. bn.wikisource.org, “নির্ঘণ্ট:আখ্যানমঞ্জরী – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮৬৭).pdf” — https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:আখ্যানমঞ্জরী_-_ঈশ্বরচন্দ্র_বিদ্যাসাগর_(১৮৬৭).pdf

  9. archive.org, “Sahitya-Sadhak-Charitmala – Vol.2” — https://archive.org/stream/dli.bengal.10689.6686/10689.6686_djvu.txt

  10. archive.org, “Bipinchandra Pal Jiban, Sahitya O Sadhana” — https://archive.org/stream/in.ernet.dli.2015.298948/2015.298948.Bipinchandra-Pal_djvu.txt

  11. prothomalo.com, “বিদ্যাসাগরের সঙ্গে রামকৃষ্ণের সাক্ষাতে আসলে কী ঘটেছিল” — https://www.prothomalo.com/onnoalo/treatise/5oolm13vhq

  12. teachers.gov.bd, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর – ২৬ মে, ২০২১ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ” — https://teachers.gov.bd/content/details/953109

  13. bn.wikisource.org, “পাতা:বিদ্যাসাগর গ্রন্থাবলী (শিক্ষা ও বিবিধ).djvu/৪৪৩” — https://bn.m.wikisource.org/wiki/পাতা:বিদ্যাসাগর_গ্রন্থাবলী_(শিক্ষা_ও_বিবিধ).djvu/৪৪৩

  14. prothomalo.com, “‘বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে'” — https://www.prothomalo.com/bangladesh/‘বিদ্যার-সাগর-তুমি-বিখ্যাত-ভারতে’

  15. bbc.com, “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি: বিবিসি বাংলার জরিপে অষ্টম স্থানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর” — https://www.bbc.com/bengali/news-51815664

  16. archive.org, “Arya Kayastha Pratibha – Vol.10” — https://archive.org/stream/in.ernet.dli.2015.277693/2015.277693.Arya-Kayastha_djvu.txt

  17. archive.org, “চতুর্দ্দশপদী-কবিতাবিল” — https://archive.org/stream/in.ernet.dli.2015.329178/2015.329178.Choturdashpadi_djvu.txt

  18. teachers.gov.bd, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর – ২৬ মে, ২০২১ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ” — https://teachers.gov.bd/content/details/953109?eeswrcndr-bidzasagr&page=597

  19. bn.wikisource.org, “আখ্যানমঞ্জরী – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর” — https://bn.wikisource.org/wiki/আখ্যানমঞ্জরী

  20. archive.org, “Sahitya-Sadhak-Charitmala – Vol.2” — https://archive.org/stream/dli.bengal.10689.6686/10689.6686_djvu.txt

  21. archive.org, “Bipinchandra Pal Jiban, Sahitya O Sadhana” — https://archive.org/stream/in.ernet.dli.2015.298948/2015.298948.Bipinchandra-Pal_djvu.txt

  22. prothomalo.com, “বিদ্যাসাগরের সঙ্গে রামকৃষ্ণের সাক্ষাতে আসলে কী ঘটেছিল” — https://www.prothomalo.com/onnoalo/treatise/5oolm13vhq

  23. prothomalo.com, “‘বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে'” — https://www.prothomalo.com/bangladesh/‘বিদ্যার-সাগর-তুমি-বিখ্যাত-ভারতে’

  24. bn.wikipedia.org, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর” — https://bn.wikipedia.org/wiki/ঈশ্বরচন্দ্র_বিদ্যাসাগর

Was it helpfull? Rate this article:
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (12 votes, average: 4.42 out of 5)

Loading...

Scroll to Top