গেজেটেড অফিসার কারা বাংলাদেশ ?

🏛️ গেজেটেড অফিসার কারা বাংলাদেশ? — প্রশাসনিক শ্রেণিবিন্যাস, আইন ও কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে “গেজেটেড অফিসার” একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদবি। সাধারণভাবে, যেসব সরকারি কর্মকর্তার নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিজীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সরকারি গেজেট (Official Gazette) -এ প্রকাশিত হয়, তাদেরকে গেজেটেড অফিসার বলা হয়। এই গেজেট হলো সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক ও আইনি প্রকাশনা, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতির বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যা তাদের মর্যাদা, দায়িত্ব, বেতন-ভাতা এবং ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করে। এই লেখায় গেজেটেড অফিসারদের সংজ্ঞা, ঐতিহাসিক পটভূমি, শ্রেণিবিন্যাস, ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের সম্পর্ক, তাদের সুযোগ-সুবিধা এবং সাম্প্রতিক আইনি সিদ্ধান্তসমূহ বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।


📜 গেজেটেড অফিসার: সংজ্ঞা ও ঐতিহাসিক পটভূমি

🧾 সংজ্ঞা

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, গেজেটেড অফিসার হলেন সেইসব সরকারি কর্মকর্তা, যাদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি এবং চাকরিজীবনের অন্যান্য ঘটনা সাপ্তাহিক সরকারি গেজেট সিরিজে উল্লেখ করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যেখানে পদমর্যাদা ও পেশার ধরনের মধ্যে একটি কঠোর সম্পর্ক বিদ্যমান। অন্য ভাষায়, গেজেট হলো সরকারের প্রজ্ঞাপন, এবং যেসব কর্মকর্তার নিয়োগ বা পদোন্নতি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরসংবলিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হয়, তারাই গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হন।

🏛️ ঐতিহাসিক বিবর্তন

গেজেটেড ও নন-গেজেটেড শ্রেণিবিন্যাসের উৎপত্তি ব্রিটিশ শাসনামলে। তখন সরকারি চাকরিজীবীদের দুটি প্রধান ভাগ ছিল: কভেনেন্টেড (Covenanted) এবং আনকভেনেন্টেড (Uncovenanted)। কভেনেন্টেড কর্মকর্তারা উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ থাকতেন। অন্যদিকে আনকভেনেন্টেড কর্মকর্তারা নিম্ন পদে থাকতেন এবং কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন না। পরবর্তীতে, প্রশাসনের বিস্তার ও ভারতীয়দের চাকরিতে অন্তর্ভুক্তির ফলে এই শ্রেণিবিন্যাস বিলুপ্ত হয় এবং নতুনভাবে গেজেটেড ও নন-গেজেটেড শ্রেণিবিন্যাসের উদ্ভব ঘটে। গেজেটেড কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতি সরকারি গেজেটে প্রকাশের বিধান আইন দ্বারা বাধ্যতামূলক করা হয়, যা তাদের উচ্চ মর্যাদা ও পদমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে।


⚖️ আইনি কাঠামো ও শ্রেণিবিন্যাস

বাংলাদেশে গেজেটেড অফিসারদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • ক্যাডার বহির্ভূত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা (শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট) নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী আইন, ২০০০: এই আইনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনস্থ শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট বিভাগের ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি নির্ধারণ করে।

  • বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪: এই বিধিমালার অধীনে সচিবালয়ের ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগ পরিচালিত হয়।

📊 শ্রেণিবিন্যাস: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি

ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে চারটি শ্রেণি ছিল: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল প্রবর্তনের পর এই শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তে ২০টি গ্রেড চালু করা হয়। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় এখনো “প্রথম শ্রেণি” ও “দ্বিতীয় শ্রেণি” পরিভাষা ব্যবহৃত হয়।

  • প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার: যারা গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত পদে অধিষ্ঠিত। এদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে হয় এবং রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগদাতা। বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

  • দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসার: যারা গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-১৩ পর্যন্ত পদে অধিষ্ঠিত এবং যাদের পদ সরকারি আদেশে (GO) সুনির্দিষ্টভাবে গেজেটেড পদমর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। ক্যাডার বহির্ভূত কিছু কর্মকর্তা এই শ্রেণিতে পড়েন।


🎯 ক্যাডার, নন-ক্যাডার এবং গেজেটেড: জটিল সম্পর্ক

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে ক্যাডার, নন-ক্যাডার এবং গেজেটেড শব্দগুলো প্রায়ই একসাথে ব্যবহৃত হয়, তবে এদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে।

🏅 ক্যাডার

বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২৬টি ক্যাডারে (বর্তমানে ২৭টি) কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ক্যাডারভুক্ত সব কর্মকর্তাই গেজেটেড। তবে সব গেজেটেড কর্মকর্তা ক্যাডার নন।

📋 নন-ক্যাডার

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পদে মনোনীত হন না, তাদের নন-ক্যাডার প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ক্যাডারের বাইরে সকলেই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা। অর্থাৎ, নন-ক্যাডার পদেও গেজেটেড মর্যাদা থাকতে পারে। নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের যখন গেজেটের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি হয়, তখন তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা বলা হয়।

🏛️ গেজেটেড

গেজেটেড হলো একটি মর্যাদা ও আইনি প্রক্রিয়া, যা নির্ধারণ করে যে একজন কর্মকর্তার নিয়োগ বা পদোন্নতি রাষ্ট্রপতির আদেশে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে কি না। এটি ক্যাডার বা নন-ক্যাডার নির্বিশেষে প্রযোজ্য।


💼 গেজেটেড অফিসারদের সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব

গেজেটেড অফিসাররা শুধু মর্যাদাপূর্ণ পদেই অধিষ্ঠিত হন না, তাদের কিছু নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে:

  • বেতন ও গ্রেড: প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসাররা গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত বেতন স্কেলে থাকেন। দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসাররা সাধারণত গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-১৩ পর্যন্ত বেতন পান। উদাহরণস্বরূপ, নন-ক্যাডার সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ষষ্ঠ গ্রেডে (বেতন স্কেল ৭১,০০০ থেকে ১,৩৪,০০০ টাকা) বেতন পান।

  • চাকরির শর্তাবলি: গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য বেতন, ভাতা, ছুটি, ভবিষ্য তহবিল, গ্র্যাচুইটি এবং পেনশন সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধিমালা প্রযোজ্য।

  • ক্ষমতা ও দায়িত্ব: গেজেটেড অফিসারদের সাধারণত প্রশাসনিক ও তদারকিমূলক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাদের সুপারিশ বা সত্যায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন হয়।


📰 সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক

🏫 প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের গেজেটেড মর্যাদা

২০২৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক যুগান্তকারী রায়ে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা প্রদান করেন। এই রায়ের ফলে তাদের বেতন গ্রেড ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়। ২০১৪ সাল থেকে এই মর্যাদা কার্যকর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের একটি আইনি বিতর্কের অবসান ঘটায়।

📈 নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি

২০২৬ সালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে ২০ জন সহকারী সচিবকে সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এই পদোন্নতি “বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত) গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪” -এর বিধি-৫ অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।


❓ গেজেটেড অফিসার নিয়ে সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১. ❓ গেজেটেড অফিসার কাকে বলে?

উত্তর: গেজেটেড অফিসার হলেন সেইসব সরকারি কর্মকর্তা, যাদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিজীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সরকারি গেজেটে (Official Gazette) প্রকাশিত হয়। এই গেজেট হলো রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন।

২. ❓ গেজেটেড ও নন-গেজেটেড অফিসারের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: মূল পার্থক্য হলো—গেজেটেড অফিসারদের নিয়োগ ও পদোন্নতি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়, যা তাদের উচ্চ মর্যাদা ও আইনি স্বীকৃতি প্রদান করে। অন্যদিকে নন-গেজেটেড কর্মচারীদের নিয়োগ সাধারণত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিজস্ব কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হয় এবং তা গেজেটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই।

৩. ❓ সব ক্যাডার অফিসার কি গেজেটেড?

উত্তর: হ্যাঁ, বিসিএস ক্যাডারভুক্ত সব কর্মকর্তাই গেজেটেড। তবে সব গেজেটেড কর্মকর্তা ক্যাডার নন; ক্যাডার বহির্ভূত (নন-ক্যাডার) পদেও গেজেটেড মর্যাদা থাকতে পারে।

৪. ❓ ক্যাডার বহির্ভূত কর্মকর্তা কীভাবে গেজেটেড হতে পারেন?

উত্তর: যদি কোনো ক্যাডার বহির্ভূত পদ সরকারি আদেশে (GO) সুনির্দিষ্টভাবে গেজেটেড পদমর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে সৃষ্টি করা হয় এবং সেই পদে নিয়োগ বা পদোন্নতি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়, তাহলে সেই কর্মকর্তা গেজেটেড মর্যাদা পান।

৫. ❓ প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার কারা?

উত্তর: প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসাররা হলেন সেইসব কর্মকর্তা যারা গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত পদে অধিষ্ঠিত এবং যাদের নিয়োগ রাষ্ট্রপতির আদেশে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে হয়। বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

৬. ❓ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসার কারা?

উত্তর: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসাররা হলেন সেইসব কর্মকর্তা যারা গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-১৩ পর্যন্ত পদে অধিষ্ঠিত এবং যাদের পদ সরকারি আদেশে গেজেটেড পদমর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন—সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এখন দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা।

৭. ❓ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা কি গেজেটেড হয়েছেন?

উত্তর: হ্যাঁ, ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে।

৮. ❓ গেজেটেড অফিসার হতে হলে কী করতে হবে?

উত্তর: গেজেটেড অফিসার হতে হলে সংশ্লিষ্ট পদটি প্রথমে গেজেটেড পদ হিসেবে সরকারি আদেশে সৃষ্টি হতে হবে এবং সেই পদে নিয়োগ বা পদোন্নতির আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে। সাধারণত বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার পদে নিয়োগ পেলে সরাসরি গেজেটেড হওয়া যায়। এছাড়া নন-ক্যাডার পদে থেকে নির্দিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির মাধ্যমে গেজেটেড মর্যাদা পাওয়া যায়।

৯. ❓ গেজেটেড অফিসারদের বেতন কত?

উত্তর: বেতন নির্ভর করে গ্রেডের উপর। প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসাররা গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত বেতন পান। দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসাররা গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-১৩ পর্যন্ত বেতন পান। উদাহরণস্বরূপ, নন-ক্যাডার সিনিয়র সহকারী সচিবরা ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১,০০০ থেকে ১,৩৪,০০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পান।

১০. ❓ গেজেটেড অফিসারদের নিয়োগ কে দেন?

উত্তর: প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসারদের নিয়োগ সাধারণত রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে হয়। দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসারদের নিয়োগ সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হতে পারে, তবে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়।


📌 মূল টেকঅওয়ে (Key Takeaways)

  • গেজেটেড অফিসার হলেন সেইসব সরকারি কর্মকর্তা, যাদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়; এটি তাদের উচ্চ মর্যাদা ও আইনি স্বীকৃতির প্রতীক।

  • এই শ্রেণিবিন্যাসের উৎপত্তি ব্রিটিশ আমলের কভেনেন্টেড ও আনকভেনেন্টেড ব্যবস্থা থেকে, যা পরবর্তীতে গেজেটেড ও নন-গেজেটেডে রূপান্তরিত হয়。

  • সব ক্যাডার অফিসারই গেজেটেড, কিন্তু সব গেজেটেড অফিসার ক্যাডার নন; ক্যাডার বহির্ভূত (নন-ক্যাডার) পদেও গেজেটেড মর্যাদা থাকতে পারে।

  • প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসাররা গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসাররা গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-১৩ পর্যন্ত বেতন স্কেলে থাকেন।

  • ২০২৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা পেয়েছেন, যা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

  • গেজেটেড মর্যাদা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পদের সরকারি আদেশে (GO) স্বীকৃতি এবং গেজেটে প্রকাশ—এই দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।


✅ উপসংহার

“গেজেটেড অফিসার কারা?”—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একটি পদবি বা মর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক কাঠামোকে নির্দেশ করে। গেজেটেড অফিসাররা হলেন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক মেরুদণ্ড, যাদের নিয়োগ ও পদোন্নতি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে বৈধতা পায় এবং যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও দায়িত্বের অংশীদার। ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের মধ্যকার জটিল সম্পর্ক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পার্থক্য, এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীদের গেজেটেড মর্যাদা প্রদান—এই সবকিছুই বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার গতিশীলতা ও বিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। এই ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে সরকারি চাকরিজীবী, চাকরিপ্রার্থী এবং সাধারণ নাগরিক—সবাই উপকৃত হবেন।


📚 তথ্যসূত্র (References)

  1. বাংলাপিডিয়া — “Gazetted Officer” (ইংরেজি)। https://en.banglapedia.org/index.php/Gazetted_Officer

  2. বাংলাপিডিয়া — “Gazetted Officer” (সংশোধিত সংস্করণ)। https://en.banglapedia.org/index.php?title=Gazetted_Officer&diff=prev&oldid=13053

  3. বাংলাদেশ সরকার — “ক্যাডার বহির্ভূত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা (শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট) নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী আইন, ২০০০”। http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-print-842.html

  4. বিডিসার্ভিসরুলস — “সরকারি কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা ২০২৬: নন-গেজেটেড কর্মচারী কি গেজেটেড কর্মকর্তা হতে পারবেন?”। https://bdservicerules.info/all-recruitment-rules-bangladesh/

  5. বিডিসার্ভিসরুলস — “সরকারি কর্মচারীদের শ্রেণী নির্ণয় ২০২৪”। https://bdservicerules.info/govt-staff-class-indication-bd/

  6. বিডিসার্ভিসরুলস — “সরকারি কর্মকর্তার বদলি পদোন্নতি ও নিয়োগ যখন গেজেটের মাধ্যমে হয়”। https://bdservicerules.info/all-bcs-not-cadre-bd/

  7. বিসশয় — “প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড বলতে কি এবং কাদের বোঝায়?”। https://www.bissoy.com/qa/1231931

  8. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড — “তফসিল: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদ”। https://nbr.gov.bd

  9. দৈনিক ইনকিলাব — “দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসারের মর্যাদা পেলেন প্রাইমারি প্রধান শিক্ষকরা” (১৪ মার্চ ২০২৫)। https://dailyinqilab.com/index.php/national/article/742115

  10. দৈনিক শিক্ষা — “প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে অর্থনৈতিক বৈষম্য” (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫)। https://www.dainikshiksha.com

  11. দৈনিক শিক্ষা — “দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পাবেন প্রাথমিকের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক: আপিল বিভাগ” (১৩ মার্চ ২০২৫)। https://www.dainikshiksha.com

  12. দেশ টিভি — “গেজেটেড মর্যাদায় প্রাথমিকের ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষক” (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। https://www.desh.tv

  13. কালবেলা — “প্রাথমিকের ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষক পেলেন গেজেটেড মর্যাদা” (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। https://www.kalbela.com

  14. জাগোনিউজ২৪ — “নন-ক্যাডার সিনিয়র সহকারী সচিব হলেন ২০ কর্মকর্তা” (১১ অক্টোবর ২০২৬)। https://www.jagonews24.com/national/news/1167156

  15. যুগান্তর — “নন-ক্যাডারে বড় পদোন্নতি” (১১ অক্টোবর ২০২৬)। https://www.jugantor.com

  16. প্রথম আলো — “গেজেটেড অফিসার কারা” (তথ্যসূত্র)। https://www.prothomalo.com

  17. বাংলাদেশ সচিবালয় — “ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪”। https://npo.gov.bd

  18. বিএসএস নিউজ — “সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেন নন-ক্যাডার ১২ কর্মকর্তা”। https://www.bssnews.net

  19. সারাবাংলা — “২০ নন-ক্যাডার সহকারী সচিবকে পদোন্নতি” (১১ অক্টোবর ২০২৬)। https://sarabangla.net

  20. শিক্ষক বাতায়ন — “সরকারি চাকরির গ্রেড” (১৪ আগস্ট ২০২১)। https://teachers.gov.bd


এই নিবন্ধটি কি সহায়ক ছিল? রেটিং দিন:
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)

Loading...

Was it helpfull? Rate this article:
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)

Loading...

 

Scroll to Top