🟢 ভূমিকা: ইউরেনিয়াম কি বাংলাদেশে আছে?
ইউরেনিয়াম পৃথিবীর heaviest naturally occurring element এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল কাঁচামাল। বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আছে কি না—এই প্রশ্নটি বহু দশক ধরে ভূতাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।短答えটি হলো: বাংলাদেশে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্বের ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ রয়েছে, তবে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কোনো ইউরেনিয়াম খনি এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে আমদানি করা হয়। এই নিবন্ধে বাংলাদেশে ইউরেনিয়ামের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা, অনুসন্ধানের ইতিহাস, বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হলো।
🟢 ইউরেনিয়াম কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইউরেনিয়াম একটি প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় মৌল, যার রাসায়নিক প্রতীক U এবং পারমাণবিক সংখ্যা 92। প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে প্রধানত U-238 (প্রায় 99.3%) এবং U-235 (প্রায় 0.7%) আইসোটোপ থাকে। U-235 হল একমাত্র প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত fissile আইসোটোপ, যা পারমাণবিক বিভাজন (nuclear fission) বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন করতে পারে। এই তাপ দিয়েই পানি থেকে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ইউরেনিয়ামে U-235-এর ঘনত্ব সাধারণত 3–5% পর্যন্ত সমৃদ্ধ (enriched) করা হয়, যা বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় 90%-এর অনেক কম। ইউরেনিয়ামের এই দ্বৈত ব্যবহার—শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সামরিক উদ্দেশ্য—এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
🟢 বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের ইতিহাস ও ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ
📍 প্রথম অনুসন্ধান ও আন্তর্জাতিক সহায়তা
বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন মূলত পলল শিলা (sedimentary rocks) দ্বারা গঠিত। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, কেবলমাত্র অনুকূল বিজারণ পরিবেশে (reducing environment) পললজাতীয় ইউরেনিয়াম আকরিক তৈরি হতে পারে। এই সম্ভাবনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) ১৯৭৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (IAEA) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) সহায়তায় ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান কর্মসূচি শুরু করে।
📍 চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারে রেডিওমেট্রিক অ্যানোমালি
১৯৭৬–১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেট জেলায় প্রাথমিক রেডিওমেট্রিক জরিপ চালিয়ে পটভূমির তুলনায় ৩–৫ গুণ বেশি বিকিরণ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে ১৯৭৭–১৯৮৫ সালের আঞ্চলিক জরিপে ৩০০-এরও বেশি রেডিওমেট্রিক অ্যানোমালি (৩–৬০ গুণ) শনাক্ত হয়, যা মূলত মায়োসিন-প্লায়োসিন যুগের Dupitila ও Tipam শিলাস্তরে অবস্থিত। এসব অঞ্চলের নমুনায় ইউরেনিয়ামের মাত্রা ২০–১০০ ppm এবং থোরিয়ামের মাত্রা ১০০–১০০০ ppm পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
📍 মৌলভীবাজারের হররগঞ্জ অ্যান্টিক্লাইন: সর্বোচ্চ ইউরেনিয়ামের সন্ধান
বাংলাদেশের ভেতরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব পাওয়া গেছে মৌলভীবাজার জেলার ফুলতলা সংরক্ষিত বনের হররগঞ্জ অ্যান্টিক্লাইনে। এখানে রেডিওমেট্রিক কাউন্ট ছিল প্রায় ৬,০০০ cps, যা পটভূমির ৬০ গুণ। রাসায়নিক বিশ্লেষণে নমুনায় ১০২০ ppm মোট ইউরেনিয়াম এবং ইউরেনিয়াম-বহনকারী খনিজ ইউরানোথোরাইট (uranothorite) ও থোরিয়ানাইট (thorianite) শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া রংপুরের মিতাপুকুরে crystalline basement rock-এ পটভূমির ২৫ গুণ বেশি বিকিরণ পাওয়া গেছে।
📍 সিলেটের জৈন্তাপুর ও ডাউকি ফল্ট বেল্ট
সিলেটের জৈন্তাপুর, শ্রীপুর ও যদুকাটা নদী উপত্যকায় একাধিক তেজস্ক্রিয় অ্যানোমালি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে ইউরেনিয়াম-বহনকারী দ্রবণ এখনো প্রবাহিত হচ্ছে, এবং দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক সময় ধরে এখানে আকরিক গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জৈন্তাপুর ও সংলগ্ন এলাকার মাটি ও শিলায় radon ঘনত্ব পরিমাপ করে ইউরেনিয়াম খনিজীকরণের সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে।
📍 কক্সবাজারের বালু ও মোনাজাইট
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুতে সরাসরি ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, তবে মোনাজাইট নামক তেজস্ক্রিয় খনিজ পাওয়া গেছে, যার ভেতরে স্বল্প মাত্রার ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিএসএমইসি (Bangladesh Seabed Minerals Exploration Company) কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ৬টি, মহেশখালীতে ৭টি, মাতারবাড়ীতে ১টি এবং কুতুবদিয়ায় ১টি খনিজ ভাণ্ডার চিহ্নিত করেছে। তবে এসব খনিজের বাণিজ্যিক উত্তোলন এখনো শুরু হয়নি।
📍 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ভূতাত্ত্বিক মডেল
IAEA-এর ১৯৭৮ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনাকে “মোটামুটি ভালো” বলে মূল্যায়ন করা হয় এবং অনুমান করা হয় যে ১ থেকে ১০,০০০ টন পর্যন্ত ইউরেনিয়ামের speculative potential থাকতে পারে। ২০১৪ সালের এক সম্মেলনে BAEC-এর ভূতাত্ত্বিকরা বাংলাদেশকে চারটি সম্ভাব্য অঞ্চলে ভাগ করেন: পূর্বাঞ্চলীয় মোবাইল বেল্ট (Eastern Mobile Belt), স্থিতিশীল প্ল্যাটফর্ম (Stable Platform), ডাউকি ফল্ট বেল্ট (Dauki Fault Belt) এবং দিনাজপুর স্লোপ (Dinajpur Slope)। এর মধ্যে ডাউকি ফল্ট বেল্টকে ভারতের মেঘালয়ের মহাদেক ইউরেনিয়াম বেল্টের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হয়, যা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক এলাকা বলে মনে করা হচ্ছে।
🟢 বর্তমানে ইউরেনিয়াম উত্তোলন হয় না কেন?
📍 বাণিজ্যিক খনি আবিষ্কৃত হয়নি
বাংলাদেশে ইউরেনিয়ামের ভূতাত্ত্বিক অস্তিত্ব থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য (economically recoverable) কোনো মজুদ এখনো প্রমাণিত হয়নি। ১৯৭০-এর দশক থেকে অনুসন্ধান চললেও বিস্তৃত ড্রিলিং,Feasibility study এবং খনি উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত থেমে আছে। কক্সবাজারের খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র (বিএসএমইসি) ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ৪৬ বছর পার হলেও কোনো বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়নি।
📍 প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ
ইউরেনিয়াম উত্তোলন অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া। কাঁচা আকরিক থেকে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন, ঘনীভবন (enrichment) এবং জ্বালানি তৈরি পর্যন্ত সম্পূর্ণ শিল্প زیرساخت প্রয়োজন। বাংলাদেশের কাছে এখনো সেই সক্ষমতা নেই। তাছাড়া কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এবং একটি প্রধান পর্যটনকেন্দ্র—এখানে বালু খনন পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে ব্যাপক বালু উত্তোলন উপকূলীয় ক্ষয় এবং সামুদ্রিক কচ্ছপের আবাসস্থল ধ্বংস করতে পারে।
📍 রাজনৈতিক ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতা
কিছু বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম উত্তোলনে আন্তর্জাতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউরেনিয়াম মজুদ থাকায় কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির সপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।
🟢 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: আমদানি করা ইউরেনিয়ামের বাস্তবতা
📍 রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানি
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর (পাবনার ঈশ্বরদী) দুটি VVER-1200 চুল্লি নিয়ে গঠিত, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট এবং মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্রের সমগ্র জ্বালানি চক্র রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক কর্পোরেশন রোসাটম (Rosatom) দ্বারা সরবরাহ করা হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বাংলাদেশে আসে। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত একাধিক চালানে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আমদানি করা হয়েছে।
📍 জ্বালানি সরবরাহের পথ ও নিরাপত্তা
ইউরেনিয়াম চালান রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে পৌঁছানোর পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নিরাপত্তায় লরিতে করে রূপপুরে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA) জ্বালানি গ্রহণ ও চুল্লিতে লোডিংয়ের অনুমোদন দেয়।
📍 খরচ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরেনিয়ামের দাম ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রতি কিলোগ্রাম প্রায় ৫৫০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। প্রতি বার জ্বালানি পুনঃস্থাপনে (reloading) খরচ হবে প্রায় ৬২ মিলিয়ন ডলার, এবং ৫০ বছরের অর্থনৈতিক জীবনে মোট জ্বালানি ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার। রূপপুর চালু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
🟢 বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম নিয়ে সর্বাধিক অনুসন্ধিত ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর
❓ ১. বাংলাদেশে কি ইউরেনিয়াম আছে?
উত্তর: ভূতাত্ত্বিকভাবে সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কোনো খনি এখনো প্রমাণিত হয়নি। রূপপুরের জন্য ইউরেনিয়াম আমদানি করা হয়।
❓ ২. বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: প্রধান সম্ভাব্য এলাকা—মৌলভীবাজারের হররগঞ্জ অ্যান্টিক্লাইন, সিলেটের জৈন্তাপুর ও ডাউকি ফল্ট বেল্ট, রংপুরের মিতাপুকুর, এবং কক্সবাজার উপকূলের মোনাজাইট-সমৃদ্ধ বালু।
❓ ৩. বাংলাদেশে কি ইউরেনিয়াম উত্তোলন হয়?
উত্তর: না। বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো বাণিজ্যিক ইউরেনিয়াম খনি নেই এবং উত্তোলন হয় না। সমস্ত পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি করা হয়।
❓ ৪. রূপপুরের ইউরেনিয়াম কোথা থেকে আসে?
উত্তর: রাশিয়া থেকে, রোসাটমের (Rosatom) মাধ্যমে। চালানগুলো কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসে।
❓ ৫. কক্সবাজারের বালুতে কি ইউরেনিয়াম আছে?
উত্তর: সরাসরি ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়নি; তবে মোনাজাইট নামক তেজস্ক্রিয় খনিজ পাওয়া গেছে, যাতে স্বল্প মাত্রার ইউরেনিয়াম থাকে। এর বাণিজ্যিক উত্তোলন এখনো শুরু হয়নি।
❓ ৬. ইউরেনিয়াম কি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর?
উত্তর: উচ্চ মাত্রায় exposición স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ক্ষতি, প্রজননগত সমস্যা ও বিকাশজনিত ব্যাধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বাভাবিক পটভূমি বিকিরণ মাত্রায় সাধারণ মানুষের ঝুঁকি খুবই কম।
❓ ৭. ইউরেনিয়াম দিয়ে কি বোমা তৈরি হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে এর জন্য ইউরেনিয়ামকে ৯০%-এর বেশি সমৃদ্ধ (highly enriched) করতে হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম মাত্র ৩–৫% সমৃদ্ধ, যা বোমা তৈরির জন্য অপর্যাপ্ত।
❓ ৮. ইউরেনিয়ামের দাম কত?
উত্তর: আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরেনিয়ামের দাম ওঠানামা করে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতি পাউন্ড ইউরেনিয়ামের দাম ছিল প্রায় ৭২.৪৭ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রতি কিলোগ্রামের দাম ৫৫০ ডলার নির্ধারিত আছে।
❓ ৯. বাংলাদেশ কি ভবিষ্যতে নিজস্ব ইউরেনিয়াম উত্তোলন করতে পারবে?
উত্তর: সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এর জন্য বিশাল বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, পরিবেশগত অনুমোদন এবং দীর্ঘমেয়াদি feasibility study প্রয়োজন। 현재로서는 অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রমাণিত হয়নি।
❓ ১০. ইউরেনিয়াম উত্তোলন না করলে বাংলাদেশের কী লাভ?
উত্তর: রূপপুরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে আমদানিনির্ভরতা কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করে। ভবিষ্যতে দেশীয় উৎস 발견 হলে তা জ্বালানি সার্বভৌমত্ব বাড়াতে পারে।
🟢 মূল Takeaways (Key Takeaways)
-
ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ আছে, বাণিজ্যিক খনি নেই: বাংলাদেশে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে, বিশেষত মৌলভীবাজার, সিলেট ও কক্সবাজার অঞ্চলে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তোলনযোগ্য মজুদ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
-
রূপপুর সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর: দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্ত ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়।
-
উত্তোলনে বড় বাধা: প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাব, উচ্চ ব্যয়, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক-কৌশলগত জটিলতা দেশীয় ইউরেনিয়াম উত্তোলনের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক।
-
কক্সবাজারের মোনাজাইট: কক্সবাজারের বালুতে সরাসরি ইউরেনিয়াম নেই, তবে মোনাজাইটে স্বল্প মাত্রার ইউরেনিয়াম রয়েছে—যা ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।
-
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বোমা তৈরির জন্য অনুপযুক্ত, এবং স্বাভাবিক পরিবেশে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি সীমিত।
-
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: IAEA-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী বাংলাদেশে ১–১০,০০০ টন পর্যন্ত speculative ইউরেনিয়াম মজুদ থাকতে পারে। সঠিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে দেশীয় উৎস ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
🟢 উপসংহার
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর দুই স্তরে বিভক্ত। ভূতাত্ত্বিক স্তরে—হ্যাঁ, দেশের কিছু অঞ্চলে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্বের प्रमाण রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে নথিভুক্ত। অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত স্তরে—না, বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কোনো ইউরেনিয়াম খনি নেই, এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্ত জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটি এখন “ইউরেনিয়াম আছে কি না” নয়, বরং “কীভাবে এই সম্ভাবনাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো যায়”। এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ ভূতাত্ত্বিক জরিপ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের পারমাণবিক ভবিষ্যৎ আমদানি করা ইউরেনিয়ামের উপরই নির্ভরশীল থাকবে।
📚 তথ্যসূত্র (References)
-
IAEA – Uranium exploration status in Bangladesh: Conceptual feasibility studies (2014)
-
IAEA – Uranium exploration in Bangladesh (1988)
-
IAEA – International Uranium Resources Evaluation Project (IUREP): Bangladesh (1978)
-
IAEA Conference Paper – Uranium exploration status in Bangladesh (2014)
-
Bangladesh Atomic Energy Commission (BAEC) – Institute of Nuclear Minerals
-
Prothom Alo – কক্সবাজারের বালুতে কি আসলেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ বিরল খনিজ আছে, কেন উত্তোলন হচ্ছে না (2026)
-
Hindustan Times Bangla – Cox’s Bazar: বাংলাদেশে হুলুস্থূল! সমুদ্রসৈকতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ বিরল খনিজ? (2026)
-
The People BD – Rare minerals in Cox’s Bazar sand: Potential but no commercial extraction (2026)
-
bdnews24 – কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম (2026)
-
Daily Inqilab – কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চালান (2026)
-
BSS News – Second uranium shipment reaches Rooppur under tight security (2026)
-
Anadolu Agency – Russian nuclear fuel lands for Bangladesh power plant (2026)
-
New Age BD – Russian TVEL JSC to supply uranium to Rooppur plant (2026)
-
New Age BD – Uranium fuel to cost $1.4b in 50yrs (2025)
-
bdnews24 – Bangladesh regulatory body approves fuel loading for Rooppur Nuclear Power Plant (2026)
-
Bangladesh Pratidin – 3rd uranium shipment arrives at RNPP (2026)
-
The Financial Express – After long wait, uranium arrives in Bangladesh (2026)
-
IAEA – Bangladesh Atomic Energy Commission (BAEC) overview
-
ScienceDirect – Toxicology of Uranium (2025)
-
ScienceDirect – Nuclear reactor fuel: Uranium toxicological mechanism and emerging health risks (2024)
-
CDC / ATSDR – ToxFAQs™ for Uranium
-
Virginia Department of Health – Uranium – Environmental Health (2023)
-
Prothom Alo – কক্সবাজারের বালুতে ইউরেনিয়াম নেই, তবে মোনাজাইট আছে (2026)
-
Kalbela – কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছল ইউরেনিয়াম (2026)
-
Bangla Telegraph – রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু অক্টোবরে (2026)
-
Dhaka Tribune – অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম (2026)
-
NTV BD – দেশে পৌঁছেছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম (2026)
-
BAERA – পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯৩
-
IAEA INIS – Measurement of radon concentrations in soils and rocks of Jaintiapur, Sylhet (2024)
-
Mendeley – Measurement of radon concentrations and annual effective doses in Jaintiapur, Sylhet (2021)
-
Prothom Alo – ইউরেনিয়াম কোনো বালখিল্য বক্তৃতার বিষয় নয় (2026)
-
Protidiner Bangladesh – উত্তোলন নেই, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে (2026)
-
Hindustan Times Bangla – বাংলাদেশের পাহাড়ে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ে বিতর্ক (2025)
-
TV3 Bangla – বাংলাদেশে বিরল খনিজে সমৃদ্ধ সৈকত, তবুও উত্তোলন বন্ধ কেন (2026)
-
Muktokontho – কক্সবাজারের বালুতে কি আসলেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ বিরল খনিজ আছে (2026)
-
IndexBox – Radioactive elements and isotopes: market drivers in Bangladesh (2026)
-
Chaarcha – ইউরেনিয়াম তোলে কীভাবে? খরচ কেমন? (2026)
-
Daily Sun – কীভাবে কাজ করে পারমাণবাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র? (2026)
-
Khulna Samayer Khobor – রূপপুরে কি পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব? (2026)
-
IEATA – Nuclear fuel cycle and proliferation resistance
-
OSTI – Fission and Bombs: Uranium enrichment for weapons
-
IAEA – Uranium: the element, its occurrence and uses (2024)
-
Royal Society of Chemistry – Uranium: Element information
-
ENEC – About Uranium
-
IAEA – Annex III: The front end of the uranium cycle (2025)
Was it helpfull? Rate this article:

